• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 11 September, 2026

বেআইনি বহুতলের সাম্রাজ্য শহরে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

কালো টাকা সাদা করা এবং বেআইনিভাবে বিদেশি মুদ্রা বিনিয়োগের অভিযোগ আছে বেআইনি বহুতল নির্মাণের ব্যবসায়

বেআইনি বহুতলের সাম্রাজ্য শহরে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

Calcutta High Court Photo-SNS

কলকাতা শহরের বুকে বেআইনি বহুতল নির্মাণ এবং তার আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে বড় চক্র কাজ করছে। এবার সেসব উদঘাটনে সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। এদিন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে সিবিআই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করতে পারবে।

রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা থেকে শুরু করে ক্যানাল স্ট্রিপ্ট সংলগ্ন এলাকায় দ্রুততার সঙ্গে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতলের তালিকা কলকাতা হাইকোর্টের নজরে এসেছে। আর তার পরই এই নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আগামী ১৪ অক্টোবর তারিখের মধ্যে সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত কক্ষে অনিয়ম করে বহুতল নির্মাণ করার বিষয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বক্তব্য, রিয়েল এস্টেট কারবার করার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের বিষয়টি অজানা ছিল না কলকাতা পুরসভার কাছে। তারপরও ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে।

কালো টাকা সাদা করা এবং বেআইনিভাবে বিদেশি মুদ্রা বিনিয়োগের অভিযোগ আছে বেআইনি বহুতল নির্মাণের ব্যবসায়। ন্যূনতম অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করার অভিযোগ আছে। তার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টকে জানিয়েছে আবেদনকারী পক্ষ। জনস্বার্থ মামলায় কলকাতার বুকে অবাধে গজিয়ে ওঠা বেআইনি আবাসন নিয়ে চরম উষ্মাপ্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এদিন শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘কেন এতদিন স্বতঃপ্রণোদিত অনুসন্ধান করা হয়নি? এটা কলকাতা পুরসভা বা রাজ্যের করার কথা। বেআইনি নির্মাণ হয়েই চলেছে। এটা কলকাতায় যেমন, মুম্বইতেও তেমন। সেখানে পুরসভার স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করা জরুরি। কেন বেআইনি হলে পুরসভা নিজে তা ভাঙবে না? পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়টি তো পুরোপুরি আলাদা।’ এইসব প্রশ্নে চাপে পড়ে কলকাতা পুরসভার আইনজীবীর জবাব, ‘আমরা বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আদালতে জমা দিতে চাই।’ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তখনই অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা সময় নষ্ট করার একটা পদ্ধতি। প্রয়োজনে আমরা কমিশনারকে ডেকে পাঠাচ্ছি। তারা বেতন পাচ্ছেন কাজ করার জন্য, কাজ না করার জন্য নয়।’

তাছাড়া কলকাতা হাইকোর্ট এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, আগে কলকাতা পুরসভার দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্মাণগুলি সব বেআইনি। মামলাকারী জানান, আরও নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। শহরে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণের ঘটনা দেখা গিয়েছে, যাদের কে বা কারা মালিক, তার কোনও সন্ধান নেই। কেউ বিশাল অঙ্কের কালো টাকা এই কাজে লগ্নি করেছে। কয়েক হাজার কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে। এটা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। তাই সিবিআই তদন্ত চাওয়া হয়েছে। আর সিবিআই আদালতে জানিয়ে দেয়, ইতিপূর্বে মামলাকারী সরাসরি তাদের চিঠি দিলেও গত রাজ্য সরকার তদন্তের অনুমতি না দেওয়ায় তারা পদক্ষেপ করতে পারেনি। তা শুনে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেখানে বিপুল অর্থ লেনদেন ও সংগঠিত অপরাধ জড়িত সেখানে আদালতের নির্দেশে সরাসরি সিবিআইয়ের হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ আইনি এক্তিয়ার আছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ অক্টোবর।