• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 11 September, 2026

কাউন্টি ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে গম্ভীরকে কী বার্তা কুলদীপের? টেস্ট দলে ফেরার দাবি?

কুলদীপের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি তাঁকে আবার ভারতের টেস্ট একাদশের দরজা খুলে দেবে?

কাউন্টি ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে গম্ভীরকে কী বার্তা কুলদীপের? টেস্ট দলে ফেরার দাবি?

Kuldeep Yadav Photo-SNS

এক ম্যাচে ১০ উইকেট! তাও ইংল্যান্ডের মাটিতে। কুলদীপ যাদব যেন পুরনো পরিচয়টা আবার মনে করিয়ে দিলেন। ইয়র্কশায়ারের হয়ে এসেক্সের বিরুদ্ধে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ১২০ রানে ১০ উইকেট নিয়ে কেরিয়ারের সেরা ফার্স্ট ক্লাস বোলিং করলেন ভারতের এই বাঁহাতি চায়নাম্যান বোলার। দুই ইনিংসে তাঁর বোলিংয়ের হিসাব—৪/৭০ এবং ৬/৫০।

কুলদীপের দাপটে ম্যাচটি ইনিংস ও ১০৬ রানে জিতে নেয় ইয়র্কশায়ার। এসেক্স প্রথম ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হওয়ার পরে ইয়র্কশায়ার তোলে ৩৯০। ব্যাট হাতেও অবদান রয়েছে কুলদীপের—৯৪ বল খেলে ৩৬ রান করেন তিনি। তার পরে দ্বিতীয় ইনিংসে এসেক্সকে মাত্র ১১৩ রানে গুটিয়ে দেয় ইয়র্কশায়ার। আর সেই ধস নামানোর নেপথ্যে কুলদীপের ছয় উইকেট।

এই প্রথম কোনও প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন কুলদীপ। স্বাভাবিক ভাবেই এমন পারফরম্যান্সের পরে প্রশ্ন উঠছে—গৌতম গম্ভীর কি এর পরেও তাঁকে সুযোগ দেবেন না?

ভারতীয় টেস্ট দলে নিয়মিত থাকলেও প্রথম একাদশে জায়গা পাকা করতে পারেননি কুলদীপ। ২০১৭ সালে টেস্ট অভিষেকের পর এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৯টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাডেজার সময়েও তাঁকে অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর পটেল, মানব সুথার কিংবা সারাংশ জৈনের মতো স্পিনাররাও সুযোগ পেয়েছেন।

কুলদীপ অবশ্য নিজের কাজটাই করে যাচ্ছেন। আর ইংল্যান্ডে এই ১০ উইকেট আসলে নির্বাচকদের জন্য জোরালো বার্তা। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে তিনি যে ম্যাচ ঘোরাতে পারেন, তা আবারও দেখিয়ে দিলেন।

ম্যাচের পরে কুলদীপ বলেন, ‘বল করার জন্য এটা দারুণ উইকেট ছিল। বেশি গতিতে বল করার প্রয়োজন ছিল না, কারণ উইকেটেই যথেষ্ট গতি ছিল। বল পিচ করার পরে সেই গতি বোঝা যাচ্ছিল। তাই শুধু বলটাকে ঘোরাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেটাই ছিল মূল বিষয়’।

ভারতের পিচের সঙ্গে হেডিংলের উইকেটের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ভারতের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে এটা সম্পূর্ণ আলাদা। দেশে বল করলে অনেক সময় বেশি স্পিন পাওয়া যায়, কিন্তু উইকেট তুলনায় মন্থর থাকে। ফলে ব্যাটারেরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। এখানে উইকেটে গতি থাকায় ব্যাটার পিছনের পায়ে গেলে সমস্যায় পড়ছে। তাকে সামনের পায়ে খেলতে হচ্ছে। আর সেখানেই ক্যাচের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—উইকেটকিপারের হাতে, স্লিপে কিংবা শর্ট লেগে’।

কুলদীপের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি তাঁকে আবার ভারতের টেস্ট একাদশের দরজা খুলে দেবে? বিশেষ করে ভারতের পরবর্তী লাল বলের সূচি সামনে রেখে তাঁর মতো একজন উইকেট-টেকিং স্পিনারের দাবি যে আরও জোরাল হল, তা বলাই যায়।

এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে কুলদীপ যেন বললেন—সুযোগ পেলে এখনও ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাঁর আছে। এবার সিদ্ধান্ত গম্ভীর এবং নির্বাচকদের।