• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 8 September, 2026

মিটমাটের বিবৃতির পর প্রতিবাদ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম সিএবি বনাম সৌরাশিস দ্বৈরথ

সোমবার সিএবির একটি মিডিয়া রিলিজে করা একটি দাবিকে ‘ভুল’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ সৌরাশিস

মিটমাটের বিবৃতির পর প্রতিবাদ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম সিএবি বনাম সৌরাশিস দ্বৈরথ

Photo: Representational Image

সোমবার যখন বাংলার এক ক্রিকেট কিংবদন্তিকে তাঁর সারা জীবনের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি (CAB), তখন বাংলার আর এক তারকা ক্রিকেটার রাজ্য সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন এক অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে, যাকে সোজা বাংলায় অশান্তি বলাই ভালো।

তিনি বাংলার প্রাক্তন রঞ্জি ক্রিকেটার ও কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী  (Saurasish Lahiri)। কিংবদন্তি উৎপল চট্টোপাধ্যায়কে জীবনকৃতি সন্মানে ভূষিত করার দিনই সৌরাশিস  (Saurasish Lahiri) কার্যত বিদ্রোহ করে বসলেন সিএবি (CAB)-র বিরুদ্ধে। রীতিমতো প্রকাশ্যে চলে এল তাঁর এবং সিএবি (CAB)-র অন্দরের টানাপোড়েন। সোমবার সিএবির (CAB) একটি মিডিয়া রিলিজে করা একটি দাবিকে ‘ভুল’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ সৌরাশিস (Saurasish Lahiri)। সিএবি (CAB)-র বিবৃতির পরে তাঁর তরফে জারি করা হয় এক পাল্টা বিবৃতি, যেখানে সিএবিকে (CAB)অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আট বছর বাংলার বিভিন্ন দলের কোচের পদে থাকার পর এ মরসুমের আগে তাঁকে কেন কোচেদের প্যানেলে রাখা হয়নি, এই নিয়ে কয়েকদিন আগেই বেশ সরব হয়েছিলেন সৌরাশিস  (Saurasish Lahiri)। সংবাদামাধ্যমের একাংশে তিনি  (Saurasish Lahiri) তাঁর সমস্ত অভিমান উগরে দিয়ে বাংলার কোচ নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন। এই নিয়ে তিনি সিএবি (CAB)-র অথিক্স অফিসার তথা ওম্বাডসম্যান প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের কাছেও বক্তব্য পেশ করেন।

আরও পড়ুন: সবুজ-মেরুনের সিনিয়রদের আটকে দিল ইস্টবেঙ্গলের রিজ়ার্ভ! ডার্বিতে ১-১ ড্র, বারাসতে জমজমাট বড় ম্যাচ

সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে সোমবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিএবি (CAB) জানিয়ে দেয়, সৌরাশিস সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিচারপতি ভট্টাচার্যের যে রায়ের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় সিএবি, তাতেও এমনই কথা বলা ছিল।

কিন্তু রাজ্য সংস্থার এই বিবৃতির পরই সৌরাশিসের  (Saurasish Lahiri) তরফে এক পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যাতে বলা হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যকে নিয়ে গঠিত এক সদস্যের কমিটির অভ্যন্তরীণ তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়েই ওই মিডিয়া রিলিজ প্রকাশ করে সিএবি (CAB)। এবং সৌরাশিস দাবি করেন, কমিটির ‘মিনিটস’-এ যা বলা হয়েছে, সিএবির প্রকাশিত বিবৃতিতে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই।

বিবৃতির প্রথমেই সৌরাশিস স্পষ্ট করে দেন, তিনি কখনও সিএবির ওম্বাডসম্যান বা সিএবির (CAB) কাছে কোনও অভিযোগ দায়েরই করেননি। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ ‘প্রত্যাহার’ করার প্রশ্নই ওঠে না।

সৌরাশিসের  (Saurasish Lahiri) বক্তব্য, সিএবির (CAB)উদ্যোগে গঠিত এক সদস্যের (জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য) কমিটির সামনে তিনি হাজির হয়েছিলেন এবং নিজের আইনি অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেই সেখানে প্রয়োজনীয় বক্তব্য পেশ করেন। তাঁর তরফে দাবি করা হয়েছে, সেই বক্তব্য শোনার পর কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ২ সেপ্টেম্বরের ‘মিনিটস’-এর মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করেন। সেই নথিতেও অভিযোগ প্রত্যাহারের কোনও উল্লেখ নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, সৌরাশিসের  (Saurasish Lahiri) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচারপতি ভট্টাচার্য এই প্রক্রিয়ায় সিএবির (CAB) ওম্বাডসম্যান হিসেবে নয়, এক সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিচারপতির ২ সেপ্টেম্বরের ‘মিনিটস’-এও বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি সৌরাশিসের।

তাঁর  (Saurasish Lahiri) অভিযোগ, সিএবির (CAB) ৭ সেপ্টেম্বরের মিডিয়া রিলিজে ওই ‘মিনিটস’-এর বক্তব্যকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই কারণেই সিএবিকে(CAB) অবিলম্বে নিজেদের প্রকাশিত বক্তব্য প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেন তিনি।

সৌরাশিস  (Saurasish Lahiri) যেমন তাঁর ‘অভিযোগ প্রত্যাহার’ করতে রাজি নন, তেমনই সিএবি (CAB)-ও এই মিডিয়া রিলিজ প্রত্যাহার করতে নারাজ। সিএবি (CAB)-র এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য, ‘ও যদি কমিটির কাছে অভিযোগ না-ই করে থাকে, তা হলে তার ভিত্তিতে রায় হল কী করে? এখন হয়তো কারো উস্কানিতে বা প্ররোচনায় বিষয়টাকে আরো বড় করে তুলছে। এতে সিএবি (CAB)-র নয় ওরই বেশি ক্ষতি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানবিরোধি কথা বলার জন্য বোর্ডেও ওকে নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এখন যারা ওকে উস্কানি দিচ্ছে, তারা কি তখন এই ফলগুলো ভোগ করবে? ওর মতো পরিণত বয়সের একজন মানুষের এটা বোঝা উচিত ছিল’।

আরও পড়ুন: কার সঙ্গে খেলতে না পারার জন্য চিরকাল আফসোস করেন কাফু? কলকাতায় এসে জানিয়ে গেলেন মনের কথা

সিএবি (CAB)-র একাংশের মত, ‘ভারতকে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতানোর পর সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হয় এবং দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়। ও কি এ ভাবে বোর্ডের বিরুদ্ধে এক ঝাঁক অভিযোগ এনেছে? এগুলোই বুঝিয়ে দেয়, দুই মানসিকতায় কতটা ফারাক। সকলেই সময় এলে সুযোগ পায় আবার সময় এলে তাকে অন্যদের জন্য জায়গাও ছেড়ে দিতে হয়। সৌরাশিস  (Saurasish Lahiri) কেন এই সত্যিটা মেনে নিতে পারছে না, ও নিজেই বলতে পারবে’।

বাংলার প্রাক্তন তারকার বক্তব্য, তিনি   (Saurasish Lahiri)‘এক সদস্যের তদন্ত কমিটি’-র কাছে কোনো অভিযোগ জানাননি, সংবাদমাধ্যমে কেন নিজের অভিমানের কথা বলেছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এবং এটাই তাঁর কাছ থেকে চাওয়া হয়েছিল। তাই অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।

এ দিন আরও একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিএবি (CAB) জানায়, সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে পারেননি অভিযোগকারী। আর সে কারণেই সিএবির (CAB) এথিক্স অফিসার মনে করছেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে হয়রানি করতেই এই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, যে টুর্নামেন্ট নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার সঙ্গে কোনওভাবেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ নেই অভিযোগকারীর, তাঁর প্রভাবিত হওয়ার বিষয়ও নেই। সেই কারণে সুরজিৎকে ক্লিনচিট দিয়েছেন সিএবির এথিক্স অফিসার।

দেখুন: