চিনির দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ( Onion prices) উদ্বেগে মধ্যবিত্ত। কয়েক সপ্তাহ আগে চিনি দাম কেজি প্রতি ৭০ টাকা ছিল, পরে অবশ্য তা কিছুটা কমেছে। এখন দাম ৫৭ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। এর মধ্যেই বাজারে পেঁয়াজের দাম ( Onion prices) আকাশছোঁয়া হওয়ায় হেঁশে চাপ পড়ছে।
গত বছর এই সময়ে যেখানে পেঁয়াজ ( Onion prices) কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছিল, এখন অনেক জায়গায় সেই দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি। দমদম গোরাবাজারের এক খুচরো বিক্রেতার কথায়, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকলে খুচরো বিক্রেতাদেরও বাড়তি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। পোস্তা ও কোলে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি বদল না হলে আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকাতেও পৌঁছতে পারে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, বাজারে বাড়তি দামের প্রত্যাশায় মজুত পেঁয়াজের ( Onion prices) সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রী কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং কৃষিসচিব নিতিন খাড়গেও মজুতদারিকে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন।
তবে আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম ( Onion prices) বাড়ার প্রবণতা নতুন নয়। উৎসবের মরসুমের আগে প্রায় প্রতি বছরই সরবরাহে টান পড়ে। বাংলায় এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত স্থানীয় পেঁয়াজের জোগান থাকে। এরপর মূলত মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আসা পেঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হয়।
আরও পড়ুন: হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সফর ঘিরে বিতর্ক, নারী কর্মীদের সরানোর অভিযোগ বন্ধ আইফেল টাওয়ার
এবার মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজের ( Onion prices) সরবরাহ তুলনামূলক কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে জ্বালানির খবরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বেঙ্গালুরু থেকেও কম পেঁয়াজ আসছে বলে জানিয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ফলে পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম চড়া।
বছরে তিন বার পেঁয়াজ ( Onion prices) চায় হয়। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত রবি মরসুমে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭০ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। এই পেঁয়াজ ৪-৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। খরিফ মরসুমে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ফলন হয়। শেষ দফার ফলন হয় জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে।
দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১৭ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজের ( Onion prices) প্রয়োজন হয়। চাহিদা মোটামুটি স্থির থাকলেও বছরের বিভিন্ন সময়ে জোগানে পরিবর্তন আসে। মে-জুন থেকে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত মূলত রবি মরসুমের সংরক্ষিত পেঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হয়। এই সুযোগে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭ লক্ষ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ( Onion prices) উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন সামান্য কম হলেও দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সমস্যার জায়গা হল পেঁয়াজের গুণমান।
দেশের মোট পেঁয়াজ ( Onion prices) উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশই হয় মহারাষ্ট্রে, যার বড় অংশ আসে নাসিক থেকে। এ বছর অসময়ের বৃষ্টি, বর্ষার দেরি এবং পরে অতিবৃষ্টির কারণে চাষে প্রভাব পড়েছে। ফলে ভালো মানের পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়াও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অতীতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ( Onion prices) বিভিন্ন নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। চলতি মাসের শুরুতেই মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লি ৪৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাঠানো হয়েছে। আর চেন্নাইতে পাঠানো হয়েছে ৮৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। পাশাপাশি সড়কপথে দেশের ১৯টি শহরে এক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতাও।
মোবাইল ভ্যান, এনসিসিএফ এবং ন্যাফেডের মতো সরকারি বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রির ( Onion prices) কথাও বলা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের কাছে প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তবে সেই পেঁয়াজের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কৃষি মন্ত্রকের আধিকারিকদের আশা, বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছু কমতে পারে। কলকাতার বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের গুণমান অনুযায়ী কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম চলছে।
আরও পড়ুন: ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রিকস সম্মেলন, তার আগে চাবাহার বন্দরে জোর ইরানের
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্টোবরের আগে পেঁয়াজের দামে ( Onion prices) স্বস্তি মিলতে পারে। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে যে পেঁয়াজ আসছে, তা মূলত শীতকালীন ফলন। বর্ষার মরসুমের নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। কর্ণাটকের নতুন পেঁয়াজ বাজারে পৌঁছলে পরিস্থিতিরর কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
পুজোর আগে পেঁয়াজের দাম ( Onion prices) নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যে শীতকালীন ফলন সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২৪০ কুইন্টাল পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই পরিকাঠামো কতটা গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলার পেঁয়াজ চাষের ( Onion prices) সম্ভাবনা থাকলেও বর্ষার মরসুমে উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনও যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০২৩-২৪ সালে বর্ষায় চাষের জন্য যে বীজ সরবরাহ করা হয়েছিল তার মান ভালো ছিল না। এ বছর আবার কোনও বীজ সরবরাহ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ফলে আপাতত ভিনরাজ্য থেকে আসা পেঁয়াজের উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাকে। আর সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজের চড়া দামের ( Onion prices) ঝাঁঝ থেকে মধ্যবিত্তের দ্রুত মুক্তি মিলবে, এমন আশা খুব একটা নেই।
দেখুন:




