• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

ইসরোর বেসরকারিকরণের খবর ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল’, জানাল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

ইসরোকে কখনও বেসরকারিকরণ করা হবে না এবং দেশের মহাকাশ গবেষণায় সংস্থাটির গুরুত্বও কোনও ভাবেই কমানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে

ইসরোর বেসরকারিকরণের খবর ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল’, জানাল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

Image: SNS

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) বেসরকারিকরণ নিয়ে চলা জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিল গবেষণা সংস্থা। রবিবার ইসরোর (ISRO) তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বেসরকারিকরণের যে খবর ছড়িয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল’। ইসরোকে (ISRO) কখনও বেসরকারিকরণ করা হবে না এবং দেশের মহাকাশ গবেষণায় সংস্থাটির গুরুত্বও কোনও ভাবেই কমানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরোর (ISRO) বিভিন্ন কেন্দ্র ও ইউনিটের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী একাধিক সংগঠন সংস্থার প্রধান এবং মহাকাশ দপ্তরের সচিব ভি নারায়ণনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। ইসরোর (ISRO) উৎপাদন ও পরিচালন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে তাঁরা সরকারি অবস্থান স্পষ্ট করা দাবি জানান।

এই জল্পনার মধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরো (ISRO) জানিয়েছে ‘এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, ইসরোর বেসরকারিকরণ করা হবে না এবং এর গুরুত্বও কমানো হবে না।‘

ইসরোর (ISRO) আরও বক্তব্য, সংস্থার ভূমিকা বদলানো হচ্ছে না, পরিবর্তন হচ্ছে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোরর পরিসর ও কাঠামোয়। অর্থাৎ দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোর গুরুত্ব বা দায়িত্ব কমবে না।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসরোর (ISRO) নয়টি কর্মী সংগঠন যৌথভাবে একটি চিঠি জমা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসরো (ISRO) স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, শার এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, আইস্যাক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, এলপিএসসি-র ইসরো  (ISRO)স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, এনআরএসএ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন-সহ আরও কয়েকটি সংগঠন। ইসরোর (ISRO) বিভিন্ন কাজ বেসরকারি সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে, এমন খবর ও কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য় নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: বেসরকারিকরণের পথে মহাকাশ গবেষণা, ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কর্মীদের

কর্মী সংগঠনগুলি গত ২১ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে IN-SPACe-এর চেয়ারম্যান পবন কুমার গোয়েঙ্কার মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন যে ভবিষ্যতে ইসরো  (ISRO) আর উৎক্ষেপণযান তৈরি বা উৎপাদন করবে না। সেই কাজ বেসরকারি সংস্থা বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির হাতে চলে যাবে।

চিঠিতে আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনগুলির দাবি, এসএসএলভি প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার ইতিমধ্যেই হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের(HAL) হাতে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পিএসএলভি ও এলভিএম-৩-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ করা হতে পারে। নিয়মিত উপগ্রহ উৎপাদনেরর কাজও ইসরোর বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

পাশাপাশি, কুলাসেকরাপট্টিনমের নতুন স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্সের মতো পরিকাঠামো পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হতে পারে বলেও খবর রয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, ইসরোর প্রায় ১২০টি প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বেসরকারি ক্ষেত্রে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংগঠনগুলির বক্তব্য, সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা ইসরো (ISRO) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। উৎক্ষেপণযানের নকশা, নির্মাণ, সংযুক্তিকরণ, পরীক্ষা এবং উৎক্ষেপণ পরিচালনা শুধুমাত্র উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ নয়, এগুলি দেশের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন: ছাত্রাবাস ধসের পর কড়া দিল্লি পুরসভা, চারতলার বেশি উঁচু অবৈধ বাড়ি দেখলেই সিল করার নির্দেশ

কর্মী সংগঠনগুলির আশঙ্কা, ধাপে ধাপে উৎক্ষেপণযান ও উপগ্রহ তৈরির কাজ ইসরোর (ISRO) বাইরে চল গেলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাজ কমে যেতে পারে। কর্মী নিয়োগ ও পদোন্নতির সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কর্মরত অনেক কর্মী ভবিষ্যতে প্রয়োজনহীন হয়ে পড়তে পারেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তাঁদের আরও দাবি, মূল কাজগুলি পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দেশের কৌশলগত স্বনির্ভরতা, গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রভাবিত হতে পারে। তবে কর্মী সংগঠনগুলি স্পষ্ট করেছে, ভারতীয় শিল্পক্ষেত্র বা মহাকাশ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক অংশগ্রহণের বিরোধিতা তারা করতে চায় না।

NSIL-এর মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তির বৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাঁদের আপত্তি নেই। তাঁদের মূল উদ্বেগ, বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ইসরোর নিজস্ব সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সরকারি নীতিপত্র সামনে আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে ইসরোর (ISRO) সাম্প্রতিক বিবৃতি বেসরকারিকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা খারিজ করেছে। সংস্থার স্পষ্ট বার্তা, ইসরো (ISRO)দেশের মহাকাশ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেই থাকবে, তবে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণের পরিসর আরও বাড়বে।

দেখুন: