• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

ছাত্রাবাস ধসের পর কড়া দিল্লি পুরসভা, চারতলার বেশি উঁচু অবৈধ বাড়ি দেখলেই সিল করার নির্দেশ

শুধু ভবন সিল করাই নয়, অবৈধ নির্মাণে কোনও আধিকারিকের ভূমিকা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে

ছাত্রাবাস ধসের পর কড়া দিল্লি পুরসভা, চারতলার বেশি উঁচু অবৈধ বাড়ি দেখলেই সিল করার নির্দেশ

Image: IANS

দিল্লির সত্য নিকেতনে ছতলা মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার (Delhi House Incident) পর নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুরসভা বা এমসিডি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গুরুতর আহত ১১ জন। রবিবার পুর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, দিল্লিতে চারতলার বেসি উচ্চতার সমস্ত অবৈধ নির্মাণ দ্রুত চিহ্নিত করে সিল করা হবে।

এমসিডির জারি করা নির্দশিকায় বলা হয়েছে, চারতলার বেশি উঁচু যে কোনও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ভবন সিল করাই নয়, অবৈধ নির্মাণে কোনও আধিকারিকের ভূমিকা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করা হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ চাণক্যপুরীর কাছে মোতি বাগের সত্য নিকেতনে একটি মেসবাড়ি আচমকাই ভেঙে পড়ে (Delhi House Incident)। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৬ জনের এবং ১১ জন এইমসে ভর্তি। ধ্বংসস্তূপ এখনও পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে ভিতরে আরও কেউ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার সকালেও ঘটনাস্থলে দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের সদস্যরা উদ্ধার ও তল্লাশি চালায়।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া পড়ুয়ার ভিডিও কল, সেই ভিডিও ভাইরাল

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়িটির নির্মাণে একাধিক অনিয়ম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটি প্রায় ৫০ বছরের পুরনো। পুরসভা সূত্রে খবর, নব্বইয়ের দশকে প্রায় ৪৯৫ বর্গফুট জমির উপর বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে বাড়িটির কোনও অনুমোদিত নকশা ছিল না বলেই দাবি পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের। পাশাপাশি, বেসমেন্টে চলা নির্মাণ কাজেরও কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনও ভবনের নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বেসমেন্ট নতুন করে নির্মাণকাজের অনুমতি সাধারণত দেওয়া হয় না। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই নিয়ম চালু রয়েছে। জমির আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনের উচ্চতার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী ভেঙে পড়া বাড়িটির উচ্চতা চারতলার বেশি হওয়া উচিত ছিল না বলেও জানিয়েছেন পুর আধিকারিকেরা।

সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগেও বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। বাড়ির মালিক হরিরাম বনসল প্রায় ২০ বছর আগে গুরুগ্রামে চলে যান। সম্প্রতি বাড়িটি সংস্কার করে পড়ুয়াদের ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। সংস্কারেরর কাজ শেষ হওয়ার আগেই পড়ুয়াদেরর থাকতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর একই সঙ্গে বেসমেন্টেও কাজ চলছিল।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ৫০ বছরের পুরনো বাড়ি ভেঙে মৃত্যু ৬, আহত বহু, চলছে উদ্ধারকাজ

ঘটনার পর মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ (Delhi House Incident) খতিয়ে দেখতে ম্যআডিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ দ্রুত বাড়ি সংস্কার করে ভাড়া দেওয়ার তাড়াহুড়ো এবং মালিকের আর্থিক লাভের মানসিকতাই এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এমসিডির প্রাথমিক রিপোর্টেও বাড়িটির  (Delhi House Incident) নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতির উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি, একটি আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। তবে পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এত বড় একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চললেও কেন পুরসভা তা সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মেসবাড়ির কাছেই পুরসভার দপ্তর থাকা সত্ত্বেও এতদিন ভবনটির নিরাপত্তা ও নির্মাণের বৈধতা কেন খতিয়ে দেখা হয়নি, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।

দেখুন: