• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

ওডেগারের গোলে চেলসিকে হারাল আর্সেনাল, শেষ মুহূর্তে ম্যান ইউকে রুখে দিল এভার্টন, বার্সার গোলবন্যা

রবিবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যেই চেলসিকে এগিয়ে দেন মরগ্যান রজার্স। দূরপাল্লার নিচু ভলিতে ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করেন তিনি। কিন্তু গোল হজম করে ভেঙে পড়েনি আর্সেনাল। বরং ক্রমশ চাপ বাড়াতে থাকে মিকেল আর্তেতার দল

ওডেগারের গোলে চেলসিকে হারাল আর্সেনাল, শেষ মুহূর্তে ম্যান ইউকে রুখে দিল এভার্টন, বার্সার গোলবন্যা

Photo: Odegaard. Pic X

প্রিমিয়ার লিগের নতুন মরসুমে চ্যাম্পিয়নদের দাপট অব্যাহত। ঘরের মাঠে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েও চেলসিকে ২-১-এ হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল আর্সেনাল (Arsenal beat Chelsea)। অন্য দিকে, জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষরক্ষা হল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এভার্টনের বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়েও ২-২ ড্র করল মাইকেল ক্যারিকের দল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অভিষেক ম্যাচে অসাধারণ গোল করে এভার্টনকে এক পয়েন্ট এনে দিলেন আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস।

 

চেলসিকে হারিয়ে নিখুঁত আর্সেনাল

 

রবিবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যেই চেলসিকে এগিয়ে দেন মরগ্যান রজার্স (Arsenal beat Chelsea)। দূরপাল্লার নিচু ভলিতে ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করেন তিনি। কিন্তু গোল হজম করে ভেঙে পড়েনি আর্সেনাল। বরং ক্রমশ চাপ বাড়াতে থাকে মিকেল আর্তেতার দল।

২৫ মিনিটে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। নিচু শটে চেলসির জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে আর্সেনালের জয়সূচক গোল। ৫০ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত ফিনিশে ২-১ এগিয়ে যায় ‘গানার্স’।

শেষ দিকে চেলসি সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল। পরিবর্ত হিসেবে নামা এস্তেভাওয়ের শটও বাঁচান রায়া। তার আগে পেদ্রো নেতোর শট পোস্টে লেগে ফেরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।

আরও পড়ুন: গুরুত্বহীন, অথচ আকর্ষণীয় কলকাতা লিগ ডার্বিতে আজ তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই

ম্যাচের পর আর্তেতা বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের দলকে খেলতে এবং লড়াই করতে দেখে দারুণ লেগেছে। আমরা যে পরিমাণ সুযোগ তৈরি করেছি, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও অসাধারণ ছিল। স্টেডিয়ামের পরিবেশটাও দেখার মতো ছিল’।

ওডেগার্ডের কথায়, ‘এটা খুব বড় ম্যাচ ছিল। প্রতিপক্ষও খুব শক্তিশালী। আমাদের কাছে ম্যাচটা কঠিন ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জিতেছি। শুরুতেই গোল খাওয়া কখনওই ঠিক নয়, কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্দান্ত। আরও কয়েকটা গোল করতে পারতাম। আমার মনে হয়, এটা অসাধারণ পারফরম্যান্স’। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে লিগে নিখুঁত শুরু করল আর্সেনাল (Arsenal beat Chelsea)।

চেলসির নতুন কোচ জাবি আলোনসোর কাছে এটাই প্রথম হার। তবে দলের হার থেকেও ইতিবাচক দিক খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আলোনসো বলেন, ‘হারলে খারাপ লাগতেই হবে। এই ম্যাচ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে—আমরা কী করছি, কোথা থেকে শুরু করছি, খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং প্রতিটি ম্যাচে আরও ভাল করার ইচ্ছা নিয়ে। আমরা যে ফুটবল খেলতে চাই, তার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত আমি খুশি। তবে আমরা ম্যাচ জিততে চাই, কারণ সেটাই শেষ কথা’।

 

শেষ ছ’মিনিটে হার ম্যান ইউয়ের

 

এভার্টনের বিরুদ্ধে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পয়েন্ট হারাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৪৭ মিনিটে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান এমবুমো।

৮৩ মিনিটে টাইরিক জর্জের গোলে সমতা ফেরায় এভার্টন। কিন্তু ৮৮ মিনিটে বেঞ্জামিন শেশকোর হেডে ফের এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। মনে হচ্ছিল, তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরবে ক্যারিকের দল। কিন্তু নাটক তখনও বাকি।

ইনজুরি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে অভিষেক ম্যাচে গোল করে এভার্টনকে বাঁচান মেইটল্যান্ড-নাইলস। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁকানো শট সরাসরি জড়িয়ে যায় ইউনাইটেডের জালে। গোলরক্ষক সেনি লামেন্সের কিছুই করার ছিল না।

ম্যাচের পর নায়ক মেইটল্যান্ড-নাইলস বলেন, ‘এ ভাবে শুরু করতে সবাই চায়। বলটা বক্সের বাইরে আমার সামনে এসে পড়েছিল। আমি জোরে শট নিই, আর সেটা একেবারে উপরের কোণে গিয়ে ঢোকে। গোলটা করে আমি খুব খুশি’।

অন্য দিকে, এই ড্রয়ে হতাশ ক্যারিক। ইউনাইটেড কোচ বলেন, ‘আমরা মরসুমটা এতটা খারাপ ভাবে শুরু করিনি। আজও তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। এটাই ফুটবল। কিছু মুহূর্ত আমাদের আরও ভাল ভাবে সামলাতে হবে। আমরা সব ঠিক করে নেব’।

তবে হতাশা লুকাননি তিনি। ক্যারিকের কথায়, ‘দু’বার আমরা ম্যাচে এগিয়ে ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত জিততে পারিনি। যে পরিশ্রম করে আমরা সেই জায়গায় পৌঁছেছিলাম, তার পর এ ভাবে ম্যাচ শেষ হওয়া মোটেই ভাল লাগছে না। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে যেন আমরা হেরেই গিয়েছি’।

আরও পড়ুন: ২০ বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ মূলপর্বে ভারত, বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস যুবদের

ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ উড়িয়ে লা লিগায় গোলবন্যা বার্সার

 

গোলের বন্যা বইয়ে লা লিগায় নিখুঁত ভাবে শুরু করল বার্সেলোনা। রবিবার ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ের ফলে মরসুমের শুরুতেই লিগের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল গত বারের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় বার্সা। ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণকে একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া এবং সতীর্থরা। প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তারা। পর পর গোল করে ভ্যালেন্সিয়ার যাবতীয় প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ করে দেয় ফ্লিকের দল। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা।

এই জয়ের ফলে মরসুমের শুরু থেকেই বার্সেলোনার ছন্দ যে অন্যদের থেকে আলাদা, তা আরও এক বার স্পষ্ট হল। আক্রমণভাগের ধার যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই রক্ষণেও এ দিন ভ্যালেন্সিয়াকে কোনও সুযোগ দেয়নি তারা। গোল না খেয়ে পাঁচ গোলের জয়—ফ্লিকের কাছে নিঃসন্দেহে স্বস্তির।

লা লিগার শীর্ষে নিজেদের জায়গা ধরে রাখার পাশাপাশি এই জয় বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। সামনে মরসুম যত এগোবে, এই ছন্দ ধরে রাখাই এখন ফ্লিকের দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

দেখুন: