• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

গড়িয়াহাট বাজারে হানা দিল কলকাতা পুরসভা, চিকেন-মাটন পড়ল ভ্যাটে

মাছ-মাংসের কাঁচামাল সংরক্ষণের ক্রেট খুলে দেখতে থাকেন তাঁরা। তখনই কাঁড়ি কাঁড়ি চিকেন-মাটন ঠাসা দেখতে পান। তাও আবার

গড়িয়াহাট বাজারে হানা দিল কলকাতা পুরসভা, চিকেন-মাটন পড়ল ভ্যাটে

Gariahat Market Photo-SNS

সপ্তাহের প্রথম দিনেই কলকাতার পশ এলাকার ব্যস্ত গড়িয়াহাট বাজারে অতর্কিত অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। কদিন ধরেই নানা হোটেল, রেস্তোরাঁয় এবং নানা খাবারের স্টলে হানা দিয়েছিলেন তাঁরা। মানুষজনকে খারাপ, বাসি এবং পুরনো খাদ্যসামগ্রী পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ছবি দেখেছেন শহরবাসী। শহর থেকে জেলায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান এবং দুধ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে নাগাড়ে নজরদারির পর এবার আমজনতার কাঁচা বাজারেও হানা দিল খাদ্য সুরক্ষা দলের অফিসাররা। এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে গড়িয়াহাট বাজারে। এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে কেউ ভাবতেই পারেননি।

সকালে বাজারে এসে দোকান খুলে সবজি, মাছ, মাংস বিক্রি করে মুনাফা করার পরিকল্পনা ছিল বিক্রেতাদের। কিন্তু সাধারণ মানুষকে কেন খারাপ জিনিস দেওয়া হবে? এক্সপায়ারি সামগ্রী কেন বেচা হচ্ছে? এইসব প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তা ভাবতে পারেননি বিক্রেতারা। দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা বলে অভিযোগ। যা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছে। এবার সেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অতর্কিত হানা দেন অফিসাররা। আর তাতেই চাপে পড়ে যান অসাধু ব্যবসায়ীরা। মাছ-মাংসের দোকানে ঢুকে যা দেখতে পেলেন অফিসাররা তাতে চমকে ওঠেন তাঁরা।

মাছ-মাংসের কাঁচামাল সংরক্ষণের ক্রেট খুলে দেখতে থাকেন তাঁরা। তখনই কাঁড়ি কাঁড়ি চিকেন-মাটন ঠাসা দেখতে পান। তাও আবার প্যাকেট করে ঠাসা। তারপরই তড়িঘড়ি অ্যাকশন নেওয়া হয়। ফ্রোজেন মাংস বাজেয়াপ্ত করে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। আর তাতেই দেখা যায়, সেইসব খাদ্যসামগ্রী খাওয়ার অযোগ্য। এই পরিস্থিতি দেখে সেগুলিকে ব্যবহারের অযোগ্য করতে তাতে ঢালা হয় ফিনাইল এবং তারপর তা কলকাতা পুরসভার গাড়িতে করে ফেলা হয় ভ্যাটে। মাছের গুণগত মান যাচাই করতে সব মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।

তাছাড়া ভেজাল এবং নিম্নমানের খাবার ঠেকাতে এই অভিযানে একদিকে যেমন সংগৃহীত হলো মাছের নমুনা, তেমনই মারাত্মক অনিয়ম মেলায় বাজেয়াপ্ত ও নষ্ট করা হল প্রচুর ফ্রোজেন মাংস। এবার কাঁচা মাছ-মাংসের গুণগত মান যাচাই করতে সোজা বাজারেও শুরু হলো অভিযান। নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীর নাম, স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আর যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। চিকেন-মটন ঠাসা ফ্রোজেন মাংসের প্যাকেটের কোনওটাতেই কবে সংরক্ষণ করা হয়েছে বা কতদিন পর্যন্ত সেটা ব্যবহারের যোগ্য থাকবে সেসবের কোনও তারিখ লেখা ছিল না। ফলে ১৫ কেজি মাংস গিয়ে পড়ল ভ্যাটে। এমনকী ভবিষ্যতে কাঁচা মাছ-মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে গুণগত মান রক্ষা করা এবং সরকারি নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের।