সারা মুখে লেগে আছে ধুলো আর শরীরে রক্তের দাগ। চারপাশে ভাঙা কংক্রিট আর ধ্বংসস্তূপ। এই পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি তিনি। দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে ধসে পড়া (Delhi House Collapsed) একটি ‘পেইং গেস্টে’-র ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেই সাহায্যের আশায় ভিডিও কল করেছিলেন এক পড়ুয়া। সেই ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যার সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান।
রবিবার দুপুরে দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতি বাগে পড়ুয়াদের থাকার একটি মেসবাড়ি ভেঙে পড়ে (Delhi House Collapsed)। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গুরুতর জখম হয়েছেন ১১ জন। তাঁরা সকলেই হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে এইমসের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ (Delhi House Collapsed) এখনও পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। তাই কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
टीम के साथी जो भी आसपास हैं, कृपया तुरंत इसकी मदद करें।
ये अभी ज़िंदा है और आपकी मदद का इंतज़ार कर रहा है।
बिना देरी किए मौके पर पहुँचें और रेस्क्यू टीम को सूचित करे और मदद करें।#SOSNSUI pic.twitter.com/3EOyMmFeyJ
— NSUI (@nsui) September 6, 2026
কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া(এনএসইউআই)-এর তরফে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে (Delhi House Collapsed) কংক্রিটের মাঝে আটকে রয়েছেন এক পড়ুয়া। নড়াচাড়া বা উঠে দাঁড়ানোর অবস্থা তাঁর নেই। শুয়ে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে মোবাইলের ক্যামেরা ঘুরিয়ে নিজের চারপাশের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, কোনও পরিচিত ব্যক্তিকে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই পড়ুয়া।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে ৫০ বছরের পুরনো বাড়ি ভেঙে মৃত্যু ৬, আহত বহু, চলছে উদ্ধারকাজ
রবিবার দুপুর প্রায় দেড়টার সময় ওই বহুতল মেসবাড়িটি ধসে পড়ে (Delhi House Collapsed)। সে সময় বাড়ির ভিতরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ওই বাড়িটি ছাত্রদের পিজি হিসেবে পরিচিত ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির নিচের (Delhi House Collapsed) তলায় মেরামতির কাজ চলছিল বলেও খবর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাড়িটির বেসমন্টে জল জমে ছিল। এর ফলে ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা। বাড়ির মালিক হরিরাম-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। ভবন রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা জানান, ধ্বংসস্তূপের (Delhi House Collapsed) নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধারকারী দল এখনও ফোন পাচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযো রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন। অনেকে খালি হাতেই ভাঙা কংক্রিট ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: দিল্লির মেসবাড়ি ধসে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হল ককরোচরা
এমসিডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুনর্বাসন কলোনির মাত্র ৫৫ বর্গগজ জমির উপর তৈরি প্রায় ৫০ বছরের পুরনো বাড়িটির অনুমোদন ছিল মাত্র দু’তলার। পরে সেটিকে বহুতলে রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটিতে প্রায় ১৫টি ঘর ছিল এবং প্রতিটি ঘরে দু-তিন জন পড়ুয়া থাকতেন
স্থানীয় বাসিন্দা ও দিল্লি পুলিশের এক কর্মী রাজেন ছেত্রীর দাবি, ওই ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দাই কেরল, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁরা মূলত মতিলাল নেহরু কলেজ, আত্ম রাম সনাতন ধর্ম কলেজ এবং শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজে পড়াশোনা করতেন। প্রতিটি বেডের জন্য মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হত বলে তাঁর দাবি।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তিনি জেলাশাসক পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপ (Delhi House Collapsed) সরিয়ে উদ্ধারকাজ এখনও জোরকদমে চলছে। ভিতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
দেখুন:




