বাঁকুড়ায় এক মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল। ধর্ষণ করার পাশাপাশি তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এমনকী জোর করে টাকা আদায় করার মতো অভিযোগও উঠেছে। এই ধর্ষণ এবং মারধর, টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জনকে। ধৃতদের রবিবার তোলা হলো বাঁকুড়া জেলা আদালতে। বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন ওই মহিলা। আর তখনই একদল দুষ্কৃতী তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। তারপর তাঁকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণও করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী জোর করে তাঁর কাছ থেকে টাকাও আদায় করা হয় বলে নির্যাতিতার অভিযোগ। শহর লাগোয়া হরিয়ালগাড়া এলাকায় মারধর-ধর্ষণের ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ।
রবিবার এই ঘটনা নিয়ে বাঁকুড়ার ওই এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষজন তেতে রয়েছেন এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর। ধর্ষণ করার পর যাতে কাউকে না বলেন তার জন্যও তাঁকে মারধর করা হয়েছিল। হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। টাকা না দিলে ধর্ষণের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে নির্যাতিতার দাবি। এই ঘটনায় নির্যাতিতা বাঁকুড়া সদর থানায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, মারধর এবং জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, কদিন আগে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া হরিয়ালগাড়া এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ওই মহিলা বন্ধুর সঙ্গে বিকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। তখন ওই মহিলার উপর একদল যুবক ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন অসভ্যতার প্রতিবাদ করেছিলেন ওই মহিলা। এরপরই ওই মহিলাকে মারধর করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখানে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ধর্ষণ করার পরে ভয় দেখিয়ে জোর করে টাকা আদায় করা হয়। অত্যাচারের এই ঘটনার পর বাঁকুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ উপযুক্ত প্রমাণও পান। তারপরই লক্ষ্মীকান্ত বাউরি এবং সুশান্ত ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাছাড়া ধৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর এবং জোর করে টাকা আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন জানালে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ধৃতদের জেরা করে ধর্ষণের ঘটনায় অপর অভিযুক্তদের খোঁজ চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালত সূত্রে খবর, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




