সেমিফাইনালের টিকিট আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে কোনও ঢিলেমি নয়। বরং শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজেই দেখা যায় ভারতকে। পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। মাত্র ৮.৪ ওভারেই রান তুলে নেয় ভারত। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় রান।
ম্যাচ শুরুর আগে যতই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে উত্তেজনা থাকুক, মাঠে নামার পর ছবিটা একেবারেই একপেশে। শ্রী চারনী, প্রেমা রাওয়াত, দীপ্তি শর্মাদের ঘূর্ণিতে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে গেল পাকিস্তান। তার পর ৬৮ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আট ম্যাচে ভারতের জয়ের সংখ্যা এখন সাত।
ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়কের মুখে তাই স্বস্তির পাশাপাশি প্রশংসা দলের পারফরম্যান্সের। হরমনপ্রীত বলেন, ‘আমাদের কাছে ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা সব সময় নির্মম ক্রিকেট খেলার কথা বলি। তাই দলের পারফরম্যান্সে খুব খুশি। সব বোলার অসাধারণ বল করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে, পিচের চরিত্র বুঝেছে এবং সেই মতো তা কাজে লাগিয়েছে।’
শনিবার দুবাইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। শুরুতে অবশ্য মুনিবা আলি ও শাওয়াল জুলফিকার মিলে ২৭ রান তুলে ফেলেছিলেন। মনে হচ্ছিল, হয়তো একটু লড়াই হবে। কিন্তু স্পিনাররা বল হাতে আসতেই ছবিটা বদলে যায়। মাত্র ৯ রানের মধ্যে ছ’টি উইকেট হারিয়ে ৩৬/৬ হয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ৫৫ রানে—মহিলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর এটাই।
ভারত ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে উঠে যাওয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে কিছুটা হালকা মনোভাব দেখাতে পারত দল। কিন্তু তা হয়নি। সেটাই সবচেয়ে বেশি খুশি করেছে হরমনপ্রীতকে। তাঁর কথায়, ‘মানটা সব সময় উঁচুতে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি এই দল কী করতে পারে। তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়া নিয়ে অবশ্য চিন্তার কিছু নেই। এমনটা হতেই পারে। পাকিস্তানেরও তো ভাল বোলিং আক্রমণ রয়েছে।’
ভারতের শুরুটাও একেবারে নিখুঁত ছিল না। শেফালি বর্মা ১২, স্মৃতি মন্ধানা ৯ এবং প্রতিকা রাওয়াল মাত্র চার রান করে ফিরে যান। তিন উইকেট হারিয়ে ভারত তখন খানিকটা চাপে। কিন্তু সেখানেই ম্যাচের হাল ধরেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর এবং দীপ্তি শর্মা। হরমনপ্রীত ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন, দীপ্তি করেন অপরাজিত ১২। শেষ পর্যন্ত ৮.৪ ওভারেই ৫৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত।
A special moment for #TeamIndia Captain Harmanpreet Kaur 🫡
First-ever to captain a side in 150 T20I matches 🙌#WomensAsiaCup | @ImHarmanpreet pic.twitter.com/a31diDfcoh
— BCCI Women (@BCCIWomen) September 5, 2026
এই ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছেন হরমনপ্রীত। পুরুষ ও মহিলা—দুই ক্রিকেট মিলিয়ে তিনিই প্রথম অধিনায়ক, যিনি ১৫০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার নজির গড়লেন। ভারতীয় মহিলা দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত ২০৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
এই মাইলফলক নিয়ে ভারত অধিনায়ক বললেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ। কখনও ভাবিনি এত দূর পর্যন্ত আসতে পারব। সবাইকে বলব, আমাকে এ ভাবেই সমর্থন করে যান। আশা করি ভাল কাজ করে যেতে পারব।’
পাকিস্তানের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ভারতের চার স্পিনার—শ্রী চারণী, প্রেমা রাওয়ত, শেফালি বর্মা এবং দীপ্তি শর্মা। তাঁদের দাপটে মাত্র ৫৫ রানেই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। চারণী একাই চার ওভারে ৭ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট।
ম্যাচের সেরা বোলিংয়ের রহস্য জানিয়ে চারণী বলেন, ‘আমি নিজের শক্তির জায়গা অনুযায়ী এবং ফিল্ড অনুযায়ী বল করতে চেয়েছিলাম। বলের উপর বেশি রেভস দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০ উইকেট থেকে আর মাত্র একটি উইকেট দূরে চারণী। তবে সেই মাইলফলক নিয়ে এখনই ভাবতে চান না তরুণ স্পিনার। তাঁর কথায়, ‘এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি শুধু ভাল খেলাটা চালিয়ে যেতে চাই।’
অন্য দিকে, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পাকিস্তান অধিনায়ক ফতিমা সানা নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইনিংসে ধস নেমেছিল। উইকেটটা নতুন ছিল এবং আমাদের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব রান করা। কারণ আমাদের বোলিং আক্রমণ ভাল।’
নিজে তিনটি উইকেট নিলেও দলের হার আটকাতে পারেননি ফতিমা। তাঁর কথায়, ‘আমি তিনটি উইকেট নিয়েছি কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের শেষ ম্যাচে ভাল ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করতে হবে।’
অর্থাৎ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও দাপুটে জয় পেল ভারত। ব্যাটে সামান্য ধাক্কা এলেও বল হাতে চারনী-প্রেমাদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না পাকিস্তান। সেমিফাইনালের আগে এমন দাপুটে জয় ভারতকে নিঃসন্দেহে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।




