হড়পা বানের ভয়াবহতা এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই নতুন করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নেপালে। ধারচুলা জেলায় ধস নেমে আংশিক ভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে চৌলানি নদীর গতিপথ। ফলে নদীতে জলস্তর বেড়ে আচমকা প্লাবনের আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। সতর্ক করা হয়েছে নদীর নিম্ন অববাহিকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপি হিমল গ্রামীণ পুরসভার অন্তর্গত ভাট্টারে বড়সড় ধস নামে। ধসের ধ্বংসস্তূপ নদীর গতিপথের একাংশ আটকে দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফের ধস নামলে নদীতে আরও মাটি, পাথর ও বালি জমে জলপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তেমনটা হলে আচমকা জল ছেড়ে দিয়ে নীচের দিকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর লাগাতার নজর রাখতে বলা হয়েছে। আপৎকালীন পরিষেবাগুলিকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুদূরপশ্চিম প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকাশ করা হয়েছে আপৎকালীন পরিষেবার নম্বরও।
তবে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত চৌলানি নদীর জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও বালাঞ্চের চামেলিয়া জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের আধিকারিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। চৌলানি নদীই চামেলিয়া নামে পরিচিত। আপি হিমল অঞ্চলে এই নদীর উৎস। পরে তা মহাকালী নদীতে গিয়ে মিশেছে। মহাকালী নদী নেপাল ও ভারতের সীমান্তের একটি অংশ তৈরি করেছে। চামেলিয়ার উপর থাকা আর একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গত ২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষতও এখনও শুকোয়নি। নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ শ্রমিকের এখনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁদের সন্ধানে এখনও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যেরা।
গত মাসের শেষের হড়পা বানের পর থেকেই কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল। শুক্রবার রাত পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি থেকে ১,২৯৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি ১২ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এর মধ্যেই ধারচুলায় নতুন করে ধস নামায় উদ্বেগ আরও বাড়ল।




