• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 4 September, 2026

মহাকাশে ভারতের নতুন ‘চোখ’, দেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নজরদারি চালাবে ইসরোর ইওএস-০৫ উপগ্রহ

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মেঘভাঙা বৃষ্টি বা প্রবল ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্রুত ছবি তুলে পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে ইওএস-০৫। কৃষি, বনজ সম্পদ, জলাশয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণেও উপগ্রহটির তথ্য ব্যবহার করা যাবে

মহাকাশে ভারতের নতুন ‘চোখ’, দেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নজরদারি চালাবে ইসরোর ইওএস-০৫ উপগ্রহ

GSLV-F17 carrying ISRO’s EOS-05 Earth observation satellite lifted off from the Satish Dhawan Space Centre in Sriharikota on September 4, 2026. | ISRO

রাত যখন গভীর, দেশের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে, সেই সময়ই শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে ভারতের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান জিএসএলভিএফ-১৭ (GSLV-F17) । শুক্রবার ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে জিএসএলভি-এফ ১৭ রকেটের মাধ্যমে উপগ্রহটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়। সঙ্গে রয়েছে পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ইওএস-০৫।

শুক্রবার সকালে ইসরো জানিয়েছে, জিএসএলভি-এফ ১৭ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে আগের থেকে ঠিক করে রাখা ‘সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট’-এ স্থাগিত হয়েছে জিস্যাট-১এ। ইসরোর ডিরেক্টর ভি নারায়ণন বলেন,’ আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, জিএসএলভি-এফ১৭ রকেট অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ভারতের প্রথম জিওসিঙ্ক্রোনাস-অরবিট ইমেজিং স্যাটেলাইট ইওএস-০৫-কে সফল এবং নিখুঁতভাবে কমপক্ষে স্থাপন করেছে’।

তিনি বলেন, ইওএস-০৫ কাজ করা শুরু করলে এটি ভূ-স্থির কক্ষপথ থেকে পরিচালিত ভারতের প্রথম বিশেষভাবে নির্মিত ইমেজিং উপগ্রহ হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা এই উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে ২,৩৬৭ কেজি ওজনের সবচেয়ে ভারী উপগ্রহটি কক্ষপথে স্থাপন করেছি। উপগ্রহটির কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।’

তিনি ‘গগনযান মানব মহাকাশযাত্রা’ কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। নারায়ণন জানান, এটি অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল মিশন। এই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখবে।

তিনি বলেন, ‘গগনযান একটি প্রযুক্তিনির্ভর মিশন। এই অভিযানের জন্য ব্যবহৃত যানটিকে মানবযাত্রার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। আমরা এখন এই মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি-সহ প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।’

GSLV-F17
GSLV-F17/EOS-05 Earth observation satellite is scheduled to launch on 04 Sept 2026 at 02:55 AM IST from the Second Launch Pad (SLP) at Satish Dhawan Space Centre (SDSC), SHAR, in Sriharikota on Thursday. (@isro X/ANI Photo)

জিএসএলভি মিশন ডিরেক্টর থমাস কুরিয়ান জানিয়েছেন, জিএসএলভি-র মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ। তাঁর কথায়, ‘জিএসএলভি-র ১৯ তম মিশন সফল’। দুর্যোগ মোকাবিলায় এই উপগ্রহের গুরুত্ব বিশেষ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মেঘভাঙা বৃষ্টি বা প্রবল ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্রুত ছবি তুলে পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে ইওএস-০৫। কৃষি, বনজ সম্পদ, জলাশয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণেও উপগ্রহটির তথ্য ব্যবহার করা যাবে। বিভিন্ন পৃষ্ঠতল থেকে প্রতিফলিত আলোর বর্ণবৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। লক্ষ্য, বড় এলাকার ছবি প্রায় ‘নিয়ার রিয়েল-টাইম’-এ পাওয়া।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় রাজি ভারত

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মহাকাশ প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই মিশনের প্রশংসা করে একে ভারতের মহাকাশ অভিযানে ‘আরও একটি বড় অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইওএস-০৫-কে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি পৃথিবী পর্যবেক্ষকারী উপগ্রহ বলেও বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য জিএসএলভি-এফ১৭ এর আগে জিএসএলভি-এফ১৬ মিশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই নাসা-ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপেরচার রাডার বা এনআইএসএআর উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

দেখুন: