শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতারকেরা। কখনও ভুয়ো কল সেন্টার, কখনও অন্য কৌশলে চলছে প্রতারণা। এবার কসবার রাজডাঙায় একটি ভুয়ো কল সেন্টারে হানা দিয়ে মোট ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করল কসবা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘রোবাস্ট ডিজিটাল সলিউশন’ নামে ওই কল সেন্টারের কর্মীরা রিলায়েন্স জিও, এয়ারটেল, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও বিমা সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন করত। ৫জি মোবাইল টাওয়ার বসানো, বিমা পলিসি এবং কম সুদে ঋণ দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত।
২ সেপ্টেম্বর রাজডাঙা মেন রোডের ইএফ-২৬ নম্বর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে ২৩ জন মহিলা ও ১৭ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কল সেন্টারটি আগে পাটুলিতে ছিল। প্রায় এক মাস আগে সেটি রাজডাঙায় সরিয়ে আনা হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ৫জি টাওয়ার বসানোর নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। বিমা প্যাকেজ ও কম সুদে ঋণের টোপ দিয়েও বিপুল টাকা তোলা হয়। টাকা লেনদেনে প্রায় ১০০টি মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল।
গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাঙ্ক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র ব্যবহার করা হত। তল্লাশিতে ৩৯টি মোবাইল ফোন, ৯টি চার্জার, ৯টি ডায়েরি, দুটি ডেবিট কার্ড এবং ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। ডায়েরিতে প্রতারণার জন্য গ্রাহকদের কী ভাবে কথার ফাঁদে ফেলতে হবে, তার স্ক্রিপ্টও মিলেছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে রাজডাঙার এফবি-২৫৯ নম্বর বাড়ির প্রথম তলায় আরও একটি ভুয়ো কল সেন্টারের হদিস পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন মহিলা ও ৯ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে ৩২টি মোবাইল ফোন ও চারটি রেজিস্টার উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দুটি কল সেন্টারই নয়াবাদের বাসিন্দা সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর এক অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগী চালাচ্ছিলেন। দুই ঘটনায় মোট ৬৬ জনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।




