উত্তরখণ্ডে টানা বৃষ্টি ও ধসের জেরে (Uttarakhand Rain) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি ও ধসের জেরে ৩ শিশু-সহ কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু খবর সামনে এসেছে। পাশাপাশি এক মহিলা-সহ দু’জন নিখোঁজ। ভারী বৃষ্টির জেরে রাজ্যের প্রায় ১৮৩টিরও বেশি প্রধান ও গ্রামীণ রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবারও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি (Uttarakhand Rain) হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে বুধবারও দেরাদুন, নৈনিতাল ও বাগেশ্বরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেরাদুনে সোমবার গভীর রাতে প্রবল বৃষ্টির সময় দু’টি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেসে যায়। ওই ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও তিন জন যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুই গাড়িতে পাঁচ জন যুবক পাউন্ধা-কন্ডোলি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তার উপর দিয়ে বইতে থাকা জলের গভীরতা বুঝতে না পাড়ায় গাড়ি ২টি জলে ভেসে যায়।
আরও পড়ুন: অন্ধ্রে ম্যালেরিয়ার ওষুধ খেয়ে মৃত্যু ৭ বছরের শিশু, ভর্তি শিশু-সহ ৫২ জন
দেরাদুনে ১২ বছরের এক শিশুর দেহ নদীর ধার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বালাওয়ালায় একটি ১০ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু জলস্রোতে ভেসে যায় বলে খবর। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়া কোটদ্বারের সিগাড্ডি এলাকায় নদী পার হওয়ার সময় এক দম্পতি ও তাঁদের এক বছরের শিশুকন্যা জলের স্রোতে ভেসে যান। ঘটনায় মা ও শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুরুষটি কোনওভাবে বেঁচে গিয়েছেন।
পৈঠানি এলাকায় পশ্চিম নয়ার নদীতে এক মহিলা ভেসে গিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও এসডিআরএফের দল উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।
উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল থেকে কুমায়ুনের বেশির ভাগ এলাকাতেই টানা বৃষ্টি (Uttarakhand Rain) শুরু হয়েছে। এর জেরে সেপ্টেম্বরের প্রথমেই বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমায়ুন অঞ্চলের হলদ্বানিতে সর্বাধিক ১৯১.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। গাড়োয়ালে কালসিতে ১৬৬ মিলিমিটার এবং হরিপুরে ১৬৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মালদেবতা ও হাতিবড়কলাতেও প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসিনাকে কি প্রত্যাবর্তন করা হবে? এ নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
টানা বৃষ্টি, ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর (Uttarakhand Rain) বেড়ে যাওয়ার ফলে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৮৩টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মুসৌরি সড়কের গ্লোগিধার এলাকায় ভূমিধসের পর পাহাড়ের বড় অংশ রাস্তার উপর ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষ ও গাছের চাপে রাস্তার একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সতর্কতার মধ্যেই প্রশাসন ও উদ্ধারকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডেও হড়পা পানের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে গরওয়া, পলামু, লাতেহার, লোহারডাগা, গুমলা, সরাইকেলা-খারসওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খুঁটি, পশ্চিম সিংভূমে হড়পা বানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গরওয়া, পলামু, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দেখুন:




