• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 2 September, 2026

বন্যার ক্ষতিপূর্ণ চেয়ে ভারত, চিন ও আমেরিকার দিকে আঙুল নেপালের! রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

এই দাবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইউএনজিএ-র অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা

বন্যার ক্ষতিপূর্ণ চেয়ে ভারত, চিন ও আমেরিকার দিকে আঙুল নেপালের! রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

Iamge: IANS

নেপালে হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে এবার জলবায়ু পরিবর্তনের দায় নিয়ে সরব হল আন্তর্জাতিক মঞ্চ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে ভারত, চিন এবং আমেরিকার নাম উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে কাঠমান্ডু। এই দাবিকে আরও জোরালো করতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে যেতে পারেন বলেও খবর।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের জেরে ভয়াবহ বন্যা হয়। ভোটেকোশী নদী অববাহিকায় নেমে আসা এই ভয়ঙ্কর জলস্রোতে রসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং-সহ একাধিক জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের দাবি, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১,১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩৯০০ জন নিখোঁজ।

নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এই বিপর্যয়কে শুধুমাত্র মানবিক সঙ্কট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, যে সব দেশ বিপুল পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করেছে, তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ভোগ করা দুর্বল দেশগুলির প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

বিদেশমন্ত্রী বলেন, নেপালের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এখন শুধুমাত্র বিদেশি সাহায্য চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দাবিকে সামনে আনা হবে।

আরও পড়ুন: ইরানে বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলার অভিযোগ, শিশু-সহ ৫ জন নিহত, আহত কমপক্ষে ৭০

নেপালের যুক্তি, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে তাদের অবদান অত্যন্ত কম। অথচ হিমবাহ গলন, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়া এবং আচমকা বন্যার মতো বিপদের মুখে সবচেয়ে বেশি পড়তে হচ্ছে হিমালয়ঘেরা দেশটিকেই।

এই দাবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইউএনজিএ-র অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা।

প্রথমে বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের নেপালের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল। তবে এখন বন্যা পরিস্থিতি ও জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি সরাসরি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীকেই পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।  নেপালে লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা।

আরও পড়ুন: হাসিনাকে কি প্রত্যাবর্তন করা হবে? এ নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো ও জনজীবন স্বাভাবিক করতে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ নেপালের অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান। বন্যায় বহু বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। এই বিপর্যয়কে নেপাল সরকার ‘হিমালয় সুনামি’ বলেও বর্ণনা করেছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে চিন, আমেরিকা ও ভারতের নাম উল্লেখ করেছেন।

তবে উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন অনেক কম। ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে বিপুল পরিমাণে কার্বন নির্গমনকারী উন্নত দেশগুলির দায়িত্ব বেশি হওয়া উচিত।

নেপাল সরকার ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘ সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

২০২২ সালের সিওপি২৭ জলবায়ু সম্মেলনে এই তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সিওপি২৮-এ তা কার্যকর করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়শীল ও দুর্বল দেশগুলিকে সাহায্য করাই এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

নেপালের পাঠানো আবেদনে বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি, ঘরছাড়া, পরিকাঠামোর ক্ষতি এবং জীবিকা ও জরুরি পরিষেবা নষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নেপাল শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, পুনর্বাসন, পুনর্গঠন এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তাও চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে টানেলে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ উদ্ধারকারী দল, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং বেইলি ব্রিজ নির্মাণের সহায়তা।

প্রথম দিকে বিদেশি উদ্ধার সহায়তা নিতে অনিচ্ছুক থাকলেও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারত, চিন এবং অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞ দল ও সরঞ্জামের সাহায্য চায় নেপাল।

দেখুন: