বাড়ি জরাজীর্ণ। দেওয়াল ও মিটার বোর্ডে জল চুঁইয়ে পড়ছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল সিইএসসি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, সেখানে বসবাসকারীদের আলো-বাতাসহীন অবস্থায় থাকতে হবে। আধুনিক সময়ে বিদ্যুৎ ছাড়া জীবনযাপন ‘অর্থবহ ও সভ্য জীবন’ থেকে বঞ্চিত করারই সামিল। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের।
বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘বিদ্যুৎ একটি অপরিহার্য পরিষেবা।’ সংবিধান নাগরিককে সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার দিয়েছে। সেই জায়গায় বিদ্যুৎহীন জীবন অর্থবহ ও সভ্য জীবনযাপনের পরিপন্থী বলেই মনে করেছে আদালত।
মামলার বয়ান অনুযায়ী, একটি জরাজীর্ণ বাড়ির মিটার বোর্ডে জল ঢুকে পড়ছিল। ফলে আগুন লাগা বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা (সিইএসসি)। পরে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই বাড়ির বাসিন্দারা। একক বেঞ্চ সিইএসসিকে নির্দিষ্ট শর্তে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেয়।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বাড়ির মালিকপক্ষ ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তাঁদের বক্তব্য, বাড়িটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। কলকাতা পুরসভা কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪১২এ ধারায় পদক্ষেপও শুরু করেছে। ফলে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হলে তাঁরা বাড়িতে থাকার বিষয়ে নতুন কোনও অধিকার বা ‘ইক্যুইটি’ দাবি করতে পারেন।
কিন্তু সেই যুক্তি মানেনি ডিভিশন বেঞ্চ। পর্যবেক্ষণে বেঞ্চ জানায়, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের অর্থ কোনওভাবেই ওই বাসিন্দাদের দখল বা বসবাসের অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া নয়। আদালতের নির্দেশ, প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে খরচ ও চার্জ জমা দিলে সংযোগ দিতে হবে। মিটার বোর্ড ও দেওয়ালের প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য পুরনো সার্ভিস কেবল সরাতে হবে। প্রয়োজনে বাইরের দেওয়ালে আলাদা মিটার বোর্ড বসানো যাবে সিইএসসির সঙ্গে আলোচনা করে।
এদিন আদালতকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই মামলাকারী ও অন্যান্য বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে বেঞ্চের কড়া বার্তা, বিদ্যুৎ ফিরলেও বাড়িতে থাকার অধিকার তৈরি হবে না। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই মামলায় বাসিন্দাদের অবস্থান বা অধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ কোনও ভাবেই তাঁদের পক্ষে কোনও নতুন অধিকার তৈরি করবে না। পুরসভা বা দেওয়ানি আদালতে চলা সংশ্লিষ্ট মামলার ফলাফলের উপরই সবকিছু নির্ভর করবে বলে জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।




