কৃত্রিম ডেয়ারি জাতীয় খাবারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জোম্যাটো। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, জোম্যাটোর প্ল্যাটফর্মে থাকা কোনও রেস্তোরাঁর খাবারে যদি অ্যানালগ ডেয়ারি ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা সরিয়ে দেওয়া হবে। যে রেস্তোরাঁ নিয়ম মানবে না, তাকে জোম্যাটো প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হবে। কৃত্রিম ডেয়ারি পণ্য দিয়ে তৈরি সমস্ত খাবার নিষিদ্ধ করল জ্যোম্যাটো।
সোমবার এক বিবৃতিতে জোম্যাটো জানিয়েছে, যে সমস্ত রেস্তোরাঁ তাদের খাবারে অ্যানালগ ডেয়ারি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে, সেই খাবারগুলি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলিকে কৃত্রিম ডেয়ারির বদলে প্রাকৃতিক ডেয়ারি সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। যদি আসল ডেয়ারিতে পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়, তাহলে অ্যানালগ ডেয়ারিতে থাকা সমস্ত খাবার মেনু থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহকারীদের থেকে কেনা পণ্যের লেবেল ও বিবরণ ভালো করে পরীক্ষা করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেস্তোরাঁগুলিকে। যাতে মেনুর তথ্যে কোনও ভুল না থাকে। এর মাধ্যমে খাবারে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে খাবারের বিবরণ যথাযথভাবে প্রকাশ করাই লক্ষ্য সংস্থার।
জোম্যাটোর সিইও আদিত্য মঙ্গল বলেন, ‘আরও বেশি মানুষের কাছে উন্নত খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য। এর সঙ্গে গ্রাহকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত খাবারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ মান বজায় রাখাও জরুরি।’ এই নীতির মাধ্যমে সেই দায়িত্ব রেস্তোরাঁ অংশীদারদের সঙ্গে মিলেই পালন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অ্যানালগ ডেয়ারি কী?
অ্যানালগ ডেয়ারি হল দুগ্ধজাত পণ্যের বিকল্প। যেখানে দুগ্ধজাত উপাদানের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় অন্য উপাদান। যেমন, অ্যানালগ পনির তৈরি করতে দুধের ফ্যাটের পরিবর্তে উদ্ভিজ তেল, স্টার্চ, উদ্ভিদজাত প্রোটিন, ইমালসিফায়ার ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে।
এই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া(FSSAI) জানিয়েছে, অ্যানালগ পণ্য সঠিকভাবে লেবেল করে বিক্রি করা যেতে পারে। তবে অ্যানালগ চিজকে পনির হিসেবে বিক্রি বা অ্যানালগ পণ্য দিয়ে তৈরি খাবারকে পনির হিসেবে পরিবেশন করা খাদ্য সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন: গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে ভয়াবহ হড়পা বান, নিখোঁজ অন্তত ১৫, উদ্ধার ৬২
মহারাষ্ট্রে কৃত্রিম বা অ্যানালগ পনির উৎপাদন ও বিক্রির উপর ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের অভিযানে পরীক্ষা করা ৩০৮টি নমুনার মধ্যে ১০৯টি অর্থাৎ ৩৫.৪ শতাংশ, নির্ধারিত মান পূরণ করেনি। এর মধ্যে ৭৯টি নমুনা নিম্নমানের বলে চিহ্নিত হয়েছিল।




