• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

যুদ্ধের অন্ধকারে লিঙ্কন: একটি জাতির আত্মার সন্ধানে

রাষ্ট্রপতি হিসেবে লিঙ্কনের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইউনিয়নকে অটুট রাখা; কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, তিনি ততই বুঝেছেন—মানুষকে শৃঙ্খলে রেখে কোনও দেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হতে পারে না

যুদ্ধের অন্ধকারে লিঙ্কন: একটি জাতির আত্মার সন্ধানে

Image: SNS

‘তা হলে, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এ যুদ্ধের শেষ কোথায়?’—প্রশ্নটি শুনে আব্রাহাম লিঙ্কন (Abraham Lincoln কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তাঁর সামনে ছড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র, কোথাও সেনাদের পশ্চাদপসরণ, কোথাও নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা, কোথাও মৃত্যুর দীর্ঘ হিসাব। আমেরিকা তখন নিজের বুকের ভিতরেই যুদ্ধ করছে। এক দেশের মানুষ একই ইতিহাসের স্মৃতি বুকে নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। লিঙ্কন যেন দীর্ঘ নীরবতার পরে বললেন, ‘শেষ? শেষ তখনই, যখন এই দেশ আবার নিজেকে ফিরে পাবে।

‘ ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫—মাত্র চার বছরের গৃহযুদ্ধ, অথচ তার ভিতরে জড়িয়ে ছিল একটি জাতির ভবিষ্যৎ। দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদ, ইউনিয়ন রক্ষার সংকট এবং তারও গভীরে মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্ন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে লিঙ্কনের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইউনিয়নকে অটুট রাখা; কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, তিনি ততই বুঝেছেন—মানুষকে শৃঙ্খলে রেখে কোনও দেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হতে পারে না।

তাঁর সামনে বড় সমস্যাগুলির একটি ছিল সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব। জেনারেল জর্জ ম্যাকক্লেলান দক্ষ সংগঠক, সৈন্যদের কাছেও জনপ্রিয়; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর অতিরিক্ত সতর্কতা লিঙ্কনকে ক্রমশ হতাশ করছিল। সুযোগ এসেও আক্রমণ পিছিয়ে যাচ্ছে, সিদ্ধান্তের বদলে অপেক্ষা বাড়ছে। লিঙ্কনের ব্যঙ্গের আড়ালে তাই চাপা ক্ষোভ—সেনাবাহিনী যদি যুদ্ধই না করে, তবে তার শক্তির মূল্য কোথায়? শেষ পর্যন্ত তিনি ম্যাকক্লেলানকে সরিয়ে দিলেন। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না; রাজনীতি, জনমত, সেনাদের মনোবল—সবকিছুর হিসাব ছিল। কিন্তু লিঙ্কন জানতেন, নেতৃত্বের সবচেয়ে কঠিন কাজ অনেক সময় জনপ্রিয় হওয়া নয়, প্রয়োজনের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়া।

আরও পড়ুন: দশ হাতে অস্ত্র, অথচ অসুর চিনতে এত ভয়!

তবে তাঁর জীবনের আরও বড় সিদ্ধান্ত ছিল দাসমুক্তি। ওয়াশিংটনে তখন বিতর্কের শেষ নেই। কেউ বলছেন, এখনই দাসপ্রথার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি হাতছাড়া হতে পারে। কেউ বলছেন, যুদ্ধের মধ্যে নতুন নৈতিক প্রশ্ন তুলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। যেন কেউ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘এখনই কি সেই সময়?’ লিঙ্কন বুঝেছিলেন, সময় কখনও নিজে থেকে আসে না; ইতিহাসের দরজায় কখনও কখনও মানুষকেই হাত রাখতে হয়। ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি দাসমুক্তির ঘোষণাপত্র কার্যকর হল। একদিনে সব শৃঙ্খল ভাঙেনি, পৃথিবীও বদলে যায়নি। কিন্তু যুদ্ধের অর্থ বদলে গেল। ইউনিয়ন রক্ষার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হল মানবমুক্তির দাবি। রাষ্ট্রের যুদ্ধ তখন মানুষের অধিকারের যুদ্ধেও পরিণত হল।

তারপর এল গেটিসবার্গ—যুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তর, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি যে সংখ্যাও একসময় মানুষের মুখ হারিয়ে ফেলে। সেই মৃতদের স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে লিঙ্কন অল্প কয়েকটি বাক্যে গণতন্ত্রের এক অনন্ত সংজ্ঞা রেখে গেলেন—‘Government of the people, by the people, for the people…।‘ কথাগুলি ছোট, অথচ তাদের ভিতর ছিল এক বিশাল রাজনৈতিক দর্শন। রাষ্ট্রের কেন্দ্রে কোনও রাজা নয়, কোনও বিশেষ শ্রেণি নয়—সাধারণ মানুষ। কিন্তু বক্তৃতা শেষ হলেও যুদ্ধ শেষ হল না।

১৮৬৪ সালের নির্বাচন এসে গেল। দেশের মানুষ ক্লান্ত, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, লিঙ্কনের জনপ্রিয়তাও প্রশ্নের মুখে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সেই ম্যাকক্লেলান, যাঁকে একদিন তিনি নিজেই সেনাপতির পদ থেকে সরিয়েছিলেন। কেউ প্রশ্ন করতেই পারত, ‘আপনি যদি হেরে যান?’ কিন্তু লিঙ্কনের কাছে রাষ্ট্রপতির পদ ছিল ব্যক্তিগত গৌরবের আসন নয়; ছিল ইতিহাসের কাছে এক কঠিন দায়। একজন মানুষ নির্বাচনে হারতে পারেন, কিন্তু তাঁর কারণে একটি দেশকে হারতে দেওয়া যায় না।

শেষ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের সামরিক সাফল্য ফিরে এল এবং লিঙ্কন পুনর্নির্বাচিত হলেন। কিন্তু বিজয়ের মুহূর্তেও তাঁর কণ্ঠে প্রতিশোধের ভাষা ছিল না। দক্ষিণকে অপমান বা চিরকালের জন্য শাস্তি দেওয়ার বদলে তিনি ভাবছিলেন—কীভাবে ভাঙা দেশটিকে আবার জোড়া যায়? কারণ তিনি বুঝেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করা সহজ; যুদ্ধের ক্ষত সারানো কঠিন। ১৮৬৫ সালে গৃহযুদ্ধের অবসান হল। ইউনিয়ন টিকে রইল, দাসপ্রথা বিলোপের পথ সুদৃঢ় হল, মনে হল দীর্ঘ অন্ধকারের শেষে আমেরিকার সামনে একটি নতুন সকাল অপেক্ষা করছে। কিন্তু ইতিহাস তার নিষ্ঠুরতম আঘাতটি যেন সেই মুহূর্তের জন্যই তুলে রেখেছিল।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার প্রথম দিনে পন্ডিচেরিতে শ্রীঅরবিন্দ

—‘আপনি যখন প্রেসিডেন্ট, তখন আমাদের আর ফাঁসির ভয় কী!’ কথাটা শুনে আব্রাহাম লিঙ্কন হয়তো সেই পরিচিত মৃদু হাসিটিই হেসেছিলেন। চার বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ তখন শেষের পথে। উত্তর জিতেছে, দক্ষিণ হার মানছে। বিজয়ীর হাতে ক্ষমতা, পরাজিতের মনে আতঙ্ক। ইতিহাসের নিয়মই যেন এমন—যুদ্ধে হারলে শাস্তি আসবে, প্রতিশোধ আসবে। কিন্তু লিঙ্কন সেই সহজ নিয়মে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর কাছে যুদ্ধের শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—এবার এই ভাঙা দেশটাকে জোড়া যাবে কী করে?

দক্ষিণের সেনাপতি রবার্ট ই. লি আত্মসমর্পণ করলেন। অনেকে চেয়েছিলেন বিদ্রোহীদের কঠোর শাস্তি দিতে। লিঙ্কন তা চাননি। তাঁর মনে হয়েছিল, চার বছরের যুদ্ধ যথেষ্ট শাস্তি দিয়েছে। আর নয়। তাই আত্মসমর্পণের সময় অপমানের বোঝা চাপানো হলো না। সৈন্যরা নিজেদের ঘোড়া নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারল, তাদের ব্যক্তিগত তরবারিও কেড়ে নেওয়া হলো না। লিঙ্কন বুঝতেন, বন্দুক নামিয়ে রাখা মানুষকে যদি আবার অপমান করা হয়, তবে শান্তি শুধু কাগজে থাকবে। এর কিছুদিন পর তিনি পৌঁছলেন রিচমন্ডে—দক্ষিণের বিদ্রোহী সরকারের রাজধানীতে। সঙ্গে ছোট ছেলে ট্যাড। কোনও রাজকীয় শোভাযাত্রা নয়, কোনও বিজয়ীর দম্ভও নয়। নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কয়েকজন তাঁকে চিনে ফেলল। তারপর যেন খবর ছড়িয়ে পড়ল শহরময়—লিঙ্কন এসেছেন!

দাসত্বের দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে আসা মানুষগুলি তাঁকে ঘিরে ধরল। কেউ হাত বাড়িয়ে দিল, কেউ কাঁদল, কেউ শুধু বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল। তাঁদের কাছে এই মানুষটি কেবল প্রেসিডেন্ট নন—স্বাধীনতার এক মুখ। কেউ অভিযোগ করল, মুক্তি পেলেও সর্বত্র অত্যাচার থামেনি। লিঙ্কন মন দিয়ে শুনলেন। পরে তাঁদেরই একজন বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেছেন, যেন দুজন সমান মানুষ। গায়ের রং নিয়ে একবারও যেন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগেনি। সেই দৃশ্যের মধ্যে লিঙ্কনের আমেরিকার স্বপ্নটি লুকিয়ে ছিল।

রিচমন্ডে তিনি কনফেডারেট প্রেসিডেন্ট জেফারসন ডেভিসের প্রাসাদেও গিয়েছিলেন। যে শহর এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কেন্দ্র ছিল, সেখানে লিঙ্কনের উপস্থিতি ছিল এক নীরব প্রতীক—যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এবার ঘৃণারও শেষ হওয়া উচিত। কিন্তু স্বপ্ন চিরকাল অধরাই থাকে । অদৃষ্টের তেমনই নীতি-বিধান । ওয়াশিংটনে তখনও ঘৃণা ছাই চাপা আগুনের মত ধিকি ধিকি জ্বলছে । লিঙ্কনের চারপাশে ছিল আতঙ্ক, ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ। জন উইল্কস বুথ নামে এক জনপ্রিয় অভিনেতা ক্রমশ লিঙ্কনের বিরুদ্ধে উন্মত্ত হয়ে উঠছিল। দক্ষিণের পরাজয় সে মেনে নিতে পারেনি। অন্যদিকে লিঙ্কন নিজেও যেন অদ্ভুত এক অশুভ অনুভূতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

একবার পোটোম্যাক নদী দিয়ে জাহাজে যাওয়ার সময় তিনি সহযাত্রীদের শেক্সপিয়র পড়ে শোনাচ্ছিলেন। তাঁর প্রিয় ‘ম্যাকবেথ’ থেকে সেই বিখ্যাত কয়েকটি লাইন— ‘Duncan is in his grave;/After life’s fitful fever he sleeps well…’ । জীবনের সমস্ত অস্থিরতা শেষে ডানকান এখন শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। বিশ্বাসঘাতকতা তার কাজ শেষ করেছে, এরপর আর অস্ত্র, বিষ কিংবা শত্রু তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। লিঙ্কন লাইনগুলি পড়তে পড়তে থেমে গিয়েছিলেন। তারপর আবার পড়েছিলেন। যেন শব্দগুলির মধ্যে তিনি দেখেছিলেন অশনি-সংকেত ।

ধোঁয়ায় ঢাকা মায়াবী এক পরিবেশে চেনা পৃথিবীটাই বড্ড অচেনা ঠেকে প্রেসিডেন্টের চোখে । হোয়াইট হাউসের ঘরে ঘরে কান্না। তিনি এক ঘর থেকে আর এক ঘরে ঘুরছেন, খুঁজছেন—মৃত্যু-ঘন্টা বাজল কার? অবশেষে এক শোকাকুল ঘরে একটি মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন —‘কার মৃত্যু ঘটেছে?’—‘প্রেসিডেন্ট। গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত।‘ দেখেছিলেন এক ভয়াবহ স্বপ্ন। স্বপ্নের কথা লিঙ্কন অন্যদেরও বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট! আমি? কিছুদূর অগ্রসর হতেই দেখলেন এক আশ্চর্য্য ঘটনা! মৃতদেহ হয়ে শায়িত তারই ডপ্লগ্যাংগার! ওমেন্স! মৃত্যুর আগে অশুভ ইঙ্গিত!

এল ১৪ এপ্রিল, ১৮৬৫। দিনটি ছিল যুদ্ধজয়ের আবহে আনন্দের ও উদযাপনের | সুমটার দুর্গে জাতীয় পতাকা উড়েছে। চার বছর আগে যে পতাকা নামিয়ে নিতে হয়েছিল, আজ তা ফিরে এসেছে। সন্ধ্যায় লিঙ্কন ঠিক করলেন, নাটক দেখতে যাবেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসেননি। চার বছরের যুদ্ধ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব, দুই সন্তানের মৃত্যু, অসংখ্য ব্যক্তিগত বেদনা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনে আনন্দের অবকাশ ছিল খুব কম। সেদিন তিনি গেলেন ফোর্ড থিয়েটারে। নাটকটির নাম Our American Cousin—হাসির নাটক।

মঞ্চে অভিনেতারা সংলাপ বলছেন, দর্শক হাসছেন। প্রেসিডেন্টও নিশ্চয়ই কিছুক্ষণের জন্য নিজের সমস্ত দায় ভুলে সেই হাসির মধ্যে ডুবে যেতে চেয়েছিলেন। ঠিক তখনই এগিয়ে এল বুথ। একটি গুলির শব্দ। তারপর সবকিছু বদলে গেল। ছিটকে লাগে রক্ত সমাজতান্ত্রিক আমেরিকার বুকে । মহাদেশ ডুবে যায় পুঁজিবাদী স্বার্থান্বেষীদের মহাসাগরে । আহত লিঙ্কনকে থিয়েটার থেকে পাশের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করলেন | পরদিন, ১৫ এপ্রিল সকালে, আমেরিকার সেই রাষ্ট্রপতি মারা গেলেন—যিনি যুদ্ধ জিতেও প্রতিশোধ চাননি।

শেষ যাত্রা! ওয়াশিংটন থেকে ট্রেন এগোল পশ্চিমের দিকে। ফিলাডেলফিয়া, নিউ ইয়র্ক, ক্লিভল্যান্ড, শিকাগো—পথের শহরগুলিতে মানুষ ভিড় করল শেষবারের মতো তাঁকে দেখার জন্য। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে গেলেন ইলিনয়ের স্প্রিংফিল্ডে। সেই শহরে, যেখানে তিনি একদিন সাধারণ মানুষ হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিলেন।

আরও পড়ুন: নেতাজির পাশে বিউগল বাজাতে দেখা যায়- এই ব্যক্তিকে চেনেন, এঁর উত্তরাধিকারী কোথায় জানেন?

কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান পরে লিখলেন—‘O Captain! My Captain!’ কবিতায় একটি জাহাজ ঝড়ঝঞ্ঝা পেরিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। চারদিকে উল্লাস। ঘণ্টা বাজছে। মানুষ বিজয় উদ্‌যাপন করছে। কিন্তু জাহাজের ডেকে পড়ে আছেন অধিনায়ক—তিনি আর ওঠেন না। লিঙ্কনের জীবন যেন সেই কবিতারই বাস্তব রূপ। দেশ বেঁচে গেল। যুদ্ধ শেষ হলো। রাষ্ট্রের জাহাজ বন্দরে পৌঁছল। কিন্তু যে মানুষটি তাকে সেখানে পৌঁছে দিলেন, তিনি আর ফিরে এলেন না। তাই আব্রাহাম লিঙ্কনের গল্প শুধু এক রাষ্ট্রপতির হত্যার গল্প নয়। এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি ক্ষমতার চূড়ায় দাঁড়িয়েও প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা করেছিলেন ।

হে অধিনায়ক, হে প্রিয় অধিনায়ক—জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।

শুধু তুমি আর ফিরে এলে না।

দেখুন: