সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি মিলল শিক্ষকদের। ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বহাল থাকল যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি। যোগ্য শিক্ষকদের চাকরির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। যোগ্য শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও এই নিয়ে একটি আবেদন জানানো হয়েছিল। এই মামলার শুনানিতেই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে। তবে এটাই চূড়ান্ত সময়সীমা। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় এই ভাষাতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী আট মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলেও নির্দেশ দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে। ২০২৭ সালের ৩১ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চের নির্দেশ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত করা হচ্ছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অভিযোগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। যার জেরে ২৬ হাজার শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর চাকরি গিয়েছিল। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছিল আদালত। রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর এই মামলায় আবার সময় চাওয়া হয়। নতুন সরকার এবং এসএসসি সময় চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। এদিন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি শচীন সচদেবার বেঞ্চ তাদের আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে এটাই শেষ বার বলে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। আর কোনও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না রাজ্য সরকারকে।
পড়ুয়াদের কথা ভেবে প্রথমে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যোগ্যদের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে তার মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে ওই সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। তাই কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৩১ আগস্ট। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন করে ওই শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে রাজ্যে সরকার বদল হয়ে যায়। তাই নতুন করে আরও সময় চায় রাজ্য সরকার এবং এসএসসি। এই মামলার শুনানিতেই সোমবার রাজ্য সরকার এবং এসএসসির আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়, এটাই শেষ বার। এরপর আর কোনও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না রাজ্য সরকারকে। এই সময়সীমার মধ্যেই শেষ করতে হবে যাবতীয় নিয়োগ।
তাছাড়া গতবছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, চিহ্নিত অযোগ্য নন, এমন শিক্ষকরা অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য স্কুলে চাকরি করতে পারবেন। আর সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, ১৮ তারিখের নির্দেশই বহাল থাকছে। ৩১ মে পর্যন্ত সময় পাচ্ছে এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।




