• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলার তরুণ ক্রিকেটার অভিষেক, হাইকোর্টে স্বস্তি অধরা

তরুণ ক্রিকেটারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, মামলার আইনি জট কত দ্রুত কাটবে?  কারণ একদিকে গুরুতর অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া। অন্যদিকে, সামনে ক্রিকেট মরশুমের বাছাই পর্ব। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আপাতত তাঁকে বিবেচনায় রাখা হয়নি।

যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলার তরুণ ক্রিকেটার অভিষেক, হাইকোর্টে স্বস্তি অধরা

Photo: Statesman

ব্যাট হাতে মাঠে নামার বদলে আপাতত জেলের চার দেওয়ালেই দিন কাটাতে হবে বাংলার তরুণ ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলকে। যৌন হেনস্থা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি। এবার কলকাতা হাইকোর্টেও স্বস্তি মিলল না দিল্লি ক্যাপিটালসের এই ব্যাটারের। ফলে আপাতত ১৪ দিন তাঁকে জেল হেফাজতেই থাকতে হবে।

সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ক্রিকেট মরশুমের বাছাই পর্ব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন জেলে থাকলে তরুণ ক্রিকেটারের কেরিয়ারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তাই জামিনের আবেদন জানান তিনি।

আইনজীবীর আরও দাবি, গত ১১ আগস্ট পুলিশ অভিষেককে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ইতিমধ্যেই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ করে চার্জশিটও জমা পড়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ক্রিকেটার।

তবে মামলার অভিযোগের গুরুত্বের দিকে নজর রেখে হাইকোর্ট আপাতত হস্তক্ষেপ করেনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জামিনের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট আদালতেই আবেদন জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। এর আগে চুঁচুড়া আদালতে প্রথমে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার ফের আদালতে তোলা হয় অভিষেককে। জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।

মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কর্নাটকের এক মেডিক্যাল পড়ুয়া তরুণী। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিষেক তাঁর সঙ্গে সহবাস করে যৌন হেনস্থা করেছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। দু’জনে বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন এবং একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছিলেন। পরে সম্পর্ক অবনতি হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়।

চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ একাধিকবার চন্দননগরে অভিষেকের বাড়িতে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ১০ আগস্ট রাতে দমদম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মগরা থানার পুলিশ।

অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারা-সহ একাধিক ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ও ৭২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ক্রিকেটার। মাঠে ৩২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এই তরুণ ক্রিকেটারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, মামলার আইনি জট কত দ্রুত কাটবে?  কারণ একদিকে গুরুতর অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া। অন্যদিকে, সামনে ক্রিকেট মরশুমের বাছাই পর্ব। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আপাতত তাঁকে বিবেচনায় রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, দক্ষিণে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, উত্তরে কী পূর্বাভাস?

তবে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা চললেও অভিষেক এখনও দোষী সাব্যস্ত হননি। আদালতে অভিযোগের বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত সত্য নির্ধারিত হবে। আপাতত তাই ক্রিকেট মাঠের বদলে আইনি লড়াইটাই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।