তখন ছিল সোনালি দিন। ভিড় থাকত জেলা কার্যালয়ে। সারাদিন ধরে নানা কাজ চলত। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের দেখা যেত। রাজনীতির আলোচনা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হতো। সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়া এবং দলীয় কাজকর্ম করা হতো। এখন আর সেই সোনালি দিন নেই। বীরভূম জেলা পার্টি অফিসে সেভাবে ভিড় দেখা যায় না। দিনে একবার খোলা হলেও বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। সেখানের দেওয়ালে টাঙানো থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল এবং চন্দ্রনাথ সিনহার ছবি। সেই ছবিগুলিই এবার দেখা গেল আবর্জনার স্তূপে। যা নিয়ে তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে বোলপুরে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ক্ষমতায় নেই। তাঁর দল ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এখন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। আর বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার তেমন দেখা মেলে না। এই আবহে বৃহস্পতিবার তিনজনের ছবি উদ্ধার হলো আবর্জনার স্তূপ থেকে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বোলপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। কারণ এখানের আবর্জনার স্তূপেই মিলল তিনজনের ছবি। এগুলি কোনও পার্টি অফিসের কিনা সেটা বোঝা যাচ্ছে না। সদ্য প্রয়াত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস চট্টোপাধ্যায়। আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তারপর এভাবে রাস্তায় ছবি গড়াগড়ি খাওয়া নিয়ে জোর চর্চাও শুরু হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় সাফাইয়ের কাজ চলছিল। তখনই একটি বস্তার ভিতর থেকে বেশ কয়েকটি বাঁধানো ছবি উদ্ধার করেন সাফাই কর্মীরা। এই বস্তাটি পথের আবর্জনার মধ্যে পড়ে ছিল। ওই বস্তা খুলে দেখা যায়, ছবিগুলির মধ্যে বয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের বাঁধানো ছবি। আবার রয়েছে চন্দ্রনাথ সিনহার সঙ্গে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুকান্ত হাজরার ছবিও। কে বা কারা এই ছবিগুলি আবর্জনায় ফেলে গেল তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে যে বা যারা এই ছবিগুলি ফেলে দিয়েছে তারা অবশ্যই তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া এই ছবিগুলি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করে। পথচলতি মানুষজন ভিড় করে তা দেখতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানারকম আলোচনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ছবিগুলি একসময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে টাঙানো থাকত। সেখান থেকে কেমন করে ওই ছবিগুলি বস্তাবন্দি হয়ে আবর্জনার স্তূপে এলো? উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।




