• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 27 August, 2026

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারণা চক্র, থানায় অভিযোগ গৃহবধূদের

এখানেই শেষ নয়, তনুশ্রী শীল ৩ হাজার টাকা, মমতা সরকার নন্দী ৮ হাজার টাকা খুইয়েছেন। গৃহবধূদের একটা বড় অংশ মিলিয়ে

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারণা চক্র, থানায় অভিযোগ গৃহবধূদের

Housewives Annapurna Yojona Photo-SNS

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হচ্ছে গৃহবধূদের। জঙ্গিপুর পুরসভার কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন করা হচ্ছে। আর তার জেরে গৃহবধূরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এমনকী এভাবে তাঁদের প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই বোঝা যাচ্ছে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারণা চক্র। এভাবে কয়েক হাজার টাকা খোয়া গিয়েছে গৃহবধূদের বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ তুলে সাইবার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক প্রতারিত গৃহবধূ। প্রতারকরা লাগাতার নতুন নতুন উপভোক্তাদের ফোনে ফাঁদ পেতে এভাবেই প্রতারণা করে চলেছে। নাগরিকদের এই বিষয়ে সচেতন এবং সতর্ক করছে পুর কর্তৃপক্ষ।

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুর এলাকায় স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বধূদেরই নিশানা করছে প্রতারকরা। পুরসভার কর্মচারী ভরত হরিজনের নাম ভাঙিয়ে ফোন করে প্রতারণা হচ্ছে বধূদের। ব্যাঙ্কের তথ্য এবং ফোনে আসা ওটিপি হাতিয়েই গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে অ্যাকাউন্টে থাকা জমানো টাকা। প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাবিয়া বিবি। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। দু’মাস মিলিয়ে অন্নপূর্ণার ছয় হাজার টাকা পেয়েছেন। বধূ রাবিয়া বলেন, ‘আমার আরও জমানো টাকা ছিল। ফোনপে নম্বর না দিলে আর টাকা ঢুকবে না বলা হয়। ওদের কথা শুনেই দেখি আমার সব টাকা নিয়ে নিয়েছে!’

এখানেই শেষ নয়, তনুশ্রী শীল ৩ হাজার টাকা, মমতা সরকার নন্দী ৮ হাজার টাকা খুইয়েছেন। গৃহবধূদের একটা বড় অংশ মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পায়েল মাঝি, মন্দিরা দাস-সহ একাধিক গৃহবধূরা প্রতারণামূলক ফোন পেয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও তাঁরা সতর্ক থাকায় টাকা নিতে পারেনি প্রতারকরা। এই পরিস্থিতিতে পড়ে গৃহবধূরা থানায় গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তাছাড়া পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনও ফোন পুরসভা থেকে করা হচ্ছে না। সরকারি প্রকল্পের টাকার জন্য ওটিপি বা লিঙ্ক পাঠানো হয় না। অজানা কোনও নম্বর থেকে ফোন এলে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, পিন বা ওটিপি কোনওভাবেই শেয়ার না করতে বলা হয়েছে। অচেনা নম্বর থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে। এলাকাজুড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। প্রতারণা চক্র পুরসভার নাম ভাঙিয়ে এই কাজ করছে। প্রতারিত মহিলারা জঙ্গিপুর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।