দিল্লির রাজপথ ফের সাক্ষী থাকতে চলেছে বড় মাপের ছাত্র-যুব বিক্ষোভের। ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) বা সংক্ষেপে সিজেপি (CJP) ঘোষণা করেছে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসেই তারা ইন্ডিয়া গেট (India Gate) থেকে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর (New Delhi Police Headquarters) পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল করবে। সোমবার দলের জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ
সিজেপির বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি। দলের দাবি, যুবসমাজের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবার কোনও কারণ নেই এবং তাদের সরল বিশ্বাসকে সরকার প্রতারণার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। বিবৃতিতে সরাসরি লেখা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তা পুরোপুরি রাখতে হবে। নাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
নিট বিতর্কের ছায়া
এই আন্দোলনের শিকড় লুকিয়ে আছে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে। জুন মাসে যন্তরমন্তরে শুরু হয় বিক্ষোভ। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়ে আন্দোলনকারীরা। শেষমেশ ২৩ জুলাই সরকার আশ্বাস দেয় যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ হবে না, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আলোচনা হবে এবং আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৫ জুলাই পডুয়াদের দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও পদত্যাগ করেন। এবং সেদিনই ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। এবার সিজেপির অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতিগুলির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি।
নেতৃত্বে কারা?
দলের তরফে জানানো হয়েছে, মিছিলের সামনের সারিতে হাঁটবেন নিট বিতর্কে আত্মহননকারী পড়ুয়াদের পরিবারের সদস্যরা এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়া আন্দোলনকারীরা। তাঁদের পিছনে হাঁটবে গোটা একটি প্রজন্ম, যাদের একটাই দাবি, সরকার কথা রাখুক। দেশের সব প্রান্তের ছাত্রছাত্রী, যুব সংগঠন এবং সাধারণ তরুণ-তরুণীদের ইন্ডিয়া গেটে জমায়েত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ
নিট পরীক্ষা নিয়ে অসন্তোষ শুধু দিল্লি বা উত্তর ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বহু ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন। রাজ্যের বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও ছাত্র সংগঠনের একাংশ জুন-জুলাইয়ের আন্দোলনে অনলাইনে সংহতি জানিয়েছিল। ফলে ৫ সেপ্টেম্বরের এই মিছিল এবং তার ফলাফল দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিশা কোনদিকে যাবে, তা ঠিক করে দিতে পারে, যার প্রভাব বাংলার আসন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির উপরেও পড়তে বাধ্য।
আগের সংঘাতের স্মৃতি
জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের সময়কার পুলিশি সংঘাতে ব্যাপক আহত হওয়ার ঘটনা এখনও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। সেবার প্রায় দশ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমেছিলেন এবং সংঘর্ষে ৬০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী ও শতাধিক পুলিশকর্মী জখম হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার পরেও যুবসমাজ ফের রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটাই অসন্তোষের তীব্রতা বুঝিয়ে দিচ্ছে।




