• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 7 August, 2026

Explainer: ককরোচ থেকে গুলি: ফের সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ঘিরে চূড়ান্ত বিতর্ক, আন্দোলনের সলতে কি আবার পাকাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই

প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যেই জন্ম নিয়েছিল গোটা এক প্রজন্মের বিদ্রোহ, এবার ‘গুলি খাওয়া' মন্তব্য নিয়ে ফের একই ইঙ্গিত, সরব ককরোচ জনতা পার্টি...

Explainer: ককরোচ থেকে গুলি: ফের সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ঘিরে চূড়ান্ত বিতর্ক, আন্দোলনের সলতে কি আবার পাকাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই

Police In Action At Jantar Mantar (X/@TheRestlessQuil)

মে মাসে উচ্চারিত একটা শব্দ। ‘ককরোচ’ (Cockroach)। ব্যস, তাতেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) মুখ থেকে বেরনো ওই একটিমাত্র মন্তব্য জন্ম দিয়েছিল এক গোটা প্রজন্মের ক্ষোভের, যারই মুখবন্ধ হিসেবে জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। তিন মাস পার হতে না হতেই সেই সুপ্রিম কোর্টেরই এক বিচারপতির মন্তব্যে ফের বিতর্কের ঢেউ। এবার প্রসঙ্গ, গুলি। আর সেই মন্তব্যের জেরে ফেনায়িত বিতর্কে ঘুরপাক খাচ্ছে একটা জরুরি প্রশ্ন, তবে কি আরেকটা আন্দোলনের সলতে পাকিয়ে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্টই।

ককরোচ জন্মকথা

শুরুয়াতটা হয়েছিল মে মাসের ১৫ তারিখ। একটা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের একাংশকে ‘ককরোচ’ আর ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেন। মন্তব্যটি নিয়ে পরে সাফাই দিলেও ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। বস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) স্রেফ একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সমাজমাধ্যমে, সব ককরোচ যদি একজোট হয়? ব্যস, তার পরের কয়েক ঘণ্টাতেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে অনুগামীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় দুই কোটি, বিজেপির অফিসিয়াল ফলোয়ারের প্রায় দ্বিগুণ। দিল্লf থেকে পুণে, বেঙ্গালুরু, এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলনের ঢেউ।

এবার কী ঘটল আদালতে

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর একটি বিদ্বেষ ভাষণ সংক্রান্ত মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছিল। তাঁর আইনজীবী আদালতে জানান, থানায় হাজিরা দিতে গিয়ে আগেরবার তাঁর মক্কেলকে ডিম থেরাপির হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল, এমনকি সত্যিই ডিম ছোঁড়াও হয়েছিল। তাই ভার্চুয়ালি হাজিরার আর্জি জানানো হয়। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, রাজনীতিতে পা রেখে ডিমের ভয় পাওয়াটা কেমন কথা, যেখানে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একসময় বুক পেতে গুলি খেয়েছেন। মন্তব্যের পরই আর্জি প্রত্যাহার করে নেন মহুয়ার আইনজীবী।

ফের বিতর্ক

আর ঠিক এখানেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা। বিচারবিভাগের শীর্ষস্থান থেকে আসা একটি মন্তব্য যেভাবে কয়েক মাস আগে গোটা এক প্রজন্মকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছিল, ঠিক তেমনই এবারের মন্তব্য নিয়েও সরব হয়েছে জেন জি। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। সমাজ মাধ্যম এক্সে তিনি এই রায়টির কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট কি এটাই চাইছে যে সকলে বুকে গুলি খাক? যখন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে এই ধরনের মন্তব্য করেন বা রায় দেন, তখন দেশের সাধারণ মানুষের আর কি কোনও আশা বেঁচে থাকে! রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিচারবিভাগের ভাষা আর সাধারণ মানুষের অনুভূতির মধ্যেকার এই ফারাকটাই বারবার নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। প্রথমবার যা ছিল কর্মসংস্থানহীন তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ, এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক নিরাপত্তা আর মহিলা সাংসদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নও।