• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 23 August, 2026

আয়ুষ্মান কার্ডে সমস্যা হলে চিকিৎসা হবে স্বাস্থ্যসাথীতে, ঘোষণা করল রাজ্য সরকার

যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সরাসরি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করা এখন থেকে আর যাবে না। আয়ুষ্মান ভারত কার্ড এখনও অনেকে পায়নি

আয়ুষ্মান কার্ডে সমস্যা হলে চিকিৎসা হবে স্বাস্থ্যসাথীতে, ঘোষণা করল রাজ্য সরকার

Swasthya Bhavan Photo-SNS

রাজ্যে এখন একসঙ্গে চালু রয়েছে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। কিন্তু কখন কোন প্রকল্পের সুবিধে মিলবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ। তবে এই বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম বেঁধে দিল স্বাস্থ্য দপ্তর। আর স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) অনুযায়ী, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ এই দুই প্রকল্পের সুবিধা। এই দুই বিমা ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহীতাদের মধ্যে সঠিক সমন্বয় রক্ষা করতেই রাজ্য সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

এই এসওপি অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধে প্রাপক কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমে দেখা হবে, তিনি আয়ুষ্মান ভারতের জন্য যোগ্য কিনা। যদি তাঁর আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে প্রথমে ওই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শুধুমাত্র আয়ুষ্মান ভারতের ‘টিএমএস’ পোর্টালে কোনও প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনও সমস্যা হলে, প্রয়োজনীয় নথি এবং স্ক্রিনশট জমা দিয়ে তবেই স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা করা যাবে। আর কেউ যদি আয়ুষ্মানের যোগ্য না হন তাহলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই চিকিৎসা হবে। এবার হাসপাতালগুলির কাছে পাঠানো এসওপি’তে এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।

যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সরাসরি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করা এখন থেকে আর যাবে না। আয়ুষ্মান ভারত কার্ড এখনও অনেকে পায়নি। তাই বিকল্প হিসাবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থাকছে। আবার কদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প যাঁরা পাবেন না তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা খোলা হচ্ছে। সুতরাং রাজ্যের সব মানুষকেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার মধ্যে নিয়ে আসতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এটা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ। তবে নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রোগীর নাম আয়ুষ্মানের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যদি তাঁর কার্ড অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে তাহলে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা চলবে। আবার ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হলে প্রথমে সেটি করার চেষ্টা করতে হবে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশনও করাতে হবে।

তাছাড়া রোগী যদি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের যোগ্য না হন বা কোনও তালিকাতেই তাঁর নাম না থাকে তখন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার ফর্ম পূরণ করিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যাবে। এই বিষয়ে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোম’–এর সচিব রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ায় যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল সেটা সরকারি এসওপি–তে অনেকটাই কেটেছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এখন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ৮.৫ কোটি মানুষের নাম নথিবদ্ধ আছে। আর আয়ুষ্মান ভারতে ইতিমধ্যেই ৩.৪ কোটি মানুষ নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন।