• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 22 August, 2026

স্কুল পরিদর্শনে ককরোচ নেতারা, রাজস্থানে হামলার অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে ‘ভাড়া করা পড়ুয়া’ ঘিরে বিতর্ক

মহারাষ্ট্রের লাতুরে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। অন্য দিকে, জয়পুরের কাছে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে দলের প্রতিনিধিদল হামলার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার

স্কুল পরিদর্শনে ককরোচ নেতারা, রাজস্থানে হামলার অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে ‘ভাড়া করা পড়ুয়া’ ঘিরে বিতর্ক

Image: IANS

গ্রামীণ সরকারি স্কুলের বেহাল পরিকাঠামোর হালহকিকত খতিয়ে দেখতে দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। আর সেই কর্মসূচির শুরুতেই পর পর দুই বিজেপিশাসিত রাজ্য – মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে দলের প্রতিনিধিদের বাধা ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের লাতুরে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। অন্য দিকে, জয়পুরের কাছে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে দলের প্রতিনিধিদল হামলার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার (Ashutosh Ranka)।  
 
স্বাধীনতা দিবসে নিজের গ্রাম মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলির সন্তুক পিম্পরি থেকে এই অভিযান শুরু করেছিলেন দীপকে (Abhijeet Dipke)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি স্কুলে গিয়ে শ্রেণিকক্ষ, শৌচাগার, পানীয় জল, মিড-ডে মিল এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোর বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই কর্মসূচির লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার লাতুরের একটি জেলা পরিষদ পরিচালিত স্কুলে গেলে তাঁদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে দীপকের (Abhijeet Dipke) অভিযোগ। পরে স্কুলচত্বর থেকে মদের বোতল পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি তাঁর অভিযোগ, তাঁদের যাওয়ার খবর পেয়ে বাইরে থেকে ‘ভাড়া করা’ পড়ুয়া এনে ক্লাসরুমে বসানো হয়েছিল। স্কুলের শৌচাগার ও মিড-ডে মিলের বেহাল দশা নিয়ে মহারাষ্ট্রের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, একই ভবনে মারাঠি ও উর্দু মাধ্যমের দু’টি পৃথক স্কুল চলে। বাইরে থেকে পড়ুয়া এনে বসানোর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পরের দিন রাজস্থানের জয়পুরের অদূরে রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে যায় সিজেপির প্রতিনিধি দল। স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ায় শিশুদের গোয়ালঘরে পড়ানো হচ্ছে বলে খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার পথেই তাঁদের গাড়ি আটকানো ও তল্লাশি করা হয়। পরে বিক্ষোভ এবং ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দলটিকে ফিরে আসতে হয়। কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙার অভিযোগও উঠেছে।

রাঙ্কার  (Ashutosh Ranka)অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। হামলার সময় তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও দেন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের একাংশ অবশ্য পালটা অভিযোগ করেন, সিজেপির (CJP) কয়েকজন সদস্য রামের নামে আপত্তিকর মন্তব্য করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বাগরুর ডেপুটি এসপি ধর্মেন্দ্র শর্মা জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না।

আরও পড়ুন: যাদবপুরে সংঘর্ষ-ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় থানায় অভিযোগ উপাচার্যের

এদিকে, রাজস্থানে স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া স্কুলে ঢোকা, ছবি-ভিডিও তোলা এবং স্কুলের কাজে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সিজেপির (CJP) দাবি, এই ধরনের বিধিনিষেধের আড়ালে সরকারি স্কুলের প্রকৃত পরিস্থিতি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তা আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। যদিও প্রশাসন বা স্থানীয়দের বক্তব্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানকে ঘিরে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর প্রশ্নের পাশাপাশি বিজেপি ও সিজেপির (CJP) মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতও ক্রমশ সামনে চলে এসেছে।

দেখুন: যাদবপুরকাণ্ডে ফলক ভাঙা নিয়ে কী বললেন শমীক?