প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে (Australia) ন’উইকেটে হারিয়ে সিরিজে চমক দিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই অবশ্য ছবিটা একেবারে বদলে গেল। মিচেল স্টার্কের আগুনে পেস বোলিংয়ের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করল বাংলাদেশের (Bangladesh) ব্যাটিং। মাত্র ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে শেষ হয়ে গেল তাদের প্রথম ইনিংস।
ম্যাকের মাঠে এটাই প্রথম টেস্ট। আর তার প্রথম সকালেই দেখা গেল মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী স্পেল। ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার। মাত্র ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রথম ইনিংস।
ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনায় শনিবার অস্ট্রেলিয়ার (Australia)হয়ে বল হাতে ঝড় তোলেন স্টার্ক। ১২ রান দিয়ে নিলেন ৬ উইকেট— টেস্টে এটি তাঁর আর একটি দুরন্ত স্পেল। প্রথম চার ওভারের মধ্যেই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি।
বাংলাদেশের (Bangladesh) শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের। ম্যাচের প্রথম বলেই শাদমান ইসলাম ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। পরের ওভারে তানজিদ হাসান তামিমও স্লিপে ক্যাচ দেন। তার পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্কোর তখন ৯ রানে ৩ উইকেট।
Mitchell Starc at his unplayable best! 💀
10 overs.
54 dot balls.
12 runs.
6 wickets.Bangladesh bowled out for just 64 #AUSvBAN #Cricket pic.twitter.com/NqO8vwQPyW
— CREX (@Crex_live) August 22, 2026
এর পরেও থামেননি স্টার্ক। তিন নম্বরে নামা মমিনুল হক গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। উইকেটকিপার লিটন দাসকেও এলবিডব্লিউ করে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার (Australia) বাঁহাতি পেসার। প্রথম দুই ওপেনার এবং বাংলাদেশের (Bangladesh) অধিনায়ক ও উইকেটকিপার— চার জনেরই কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। প্রথম ছ’জন ব্যাটারের রান ছিল যথাক্রমে ০, ০, ৯, ০, ৫, ০। এমন স্কোরবোর্ডের ছবি নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
অন্য প্রান্ত থেকে আক্রমণ চালান প্যাট কামিন্স। তাঁর দুরন্ত ইনসুইং ডেলিভারিতে উপড়ে যায় মুশফিকুর রহিমের (৫) মিডল স্টাম্প। কামিন্স ৩ উইকেট নেন ২৫ রানে। জশ হ্যাজলউডের দখলে ১ থাকে উইকেট, ১৮ রান দিয়ে।
মেহেদি হাসান মিরাজ করেন ১১ রান, তাসকিন আহমেদের সংগ্রহ ১। হাসান মাহমুদকে ১০ রানে ফেরান হ্যাজলউড। শেষ দিকে শরিফুল ইসলাম ১৪ রান করেন তিনটি চার মেরে। তাঁর সঙ্গে শেষ উইকেটে ২৫ রান যোগ করেন তাইজুল ইসলাম, যিনি ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ৩৪তম ওভারে শরিফুলকে কট বিহাইন্ড করে বাংলাদেশের (Bangladesh) ইনিংসে যবনিকা নামিয়ে দেন স্টার্ক।
স্টার্কের এই পাঁচ উইকেট নেওয়া টেস্ট ইতিহাসের ষষ্ঠ দ্রুততম। সবচেয়ে দ্রুত পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড অবশ্য তাঁর নিজেরই— গত বছর কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এ বার ম্যাকের নতুন টেস্ট ভেন্যুতেও তাঁর সেই ভয়ঙ্কর রূপই ফিরে এল।
এই ম্যাচ দিয়েই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনা অস্ট্রেলিয়ার (Australia) দ্বাদশ টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। প্রথম টেস্টে ব্যর্থতার পরে জেক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরিয়ে আনা হয় ম্যাট রেনশ-কে। অন্য দিকে, চোট সারিয়ে বাংলাদেশের দলে ফিরেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে ন’উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ (Bangladesh)সিরিজে ১-০ এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই স্টার্কের একের পর এক আগুনের গোলা সামলাতে না পেরে তাদের ব্যাটিং বড় ধাক্কা খেল। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে এ বার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার (Australia) সামনে।




