• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢোকায় মহিলাদের বিক্ষোভ, জামুড়িয়ায় বিডিও অফিসে পড়ল তালা

এদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কথিত অনিয়ম এবং যোগ্য উপভোক্তাদের আবেদন হঠাৎ বাতিল করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢোকায় মহিলাদের বিক্ষোভ, জামুড়িয়ায় বিডিও অফিসে পড়ল তালা

Women's Agitation Photo-SNS

রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যোগ্য মহিলা প্রাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না ঢোকায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নদিয়ার কল্যাণীর একাধিক মহিলা। আর বৃহস্পতিবার কল্যাণী মহকুমাশাসকের দপ্তরের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।

অন্নপূর্ণার টাকা কেন এখনও অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি? এই প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান বিক্ষোভকারী মহিলারা। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আবার অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টাল খোলা হচ্ছে। সেখানে আবেদন করা যাবে। তার উপর যাঁরা টাকা পাননি তাঁদের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে জানার উপায় আছে, না পাওয়ার কারণ। সেইসব কারণ শুধরে নিলেই সমস্যা মিটে যাবে। এমনটাই জানা গিয়েছে।

এদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কথিত অনিয়ম এবং যোগ্য উপভোক্তাদের আবেদন হঠাৎ বাতিল করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামুড়িয়া বিডিও দপ্তরে জোরদার বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় মহিলা বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারী মহিলারা বিডিও দপ্তরের মূল গেটে তালা লাগিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু প্রকৃত এবং দরিদ্র উপভোক্তার আবেদন আচমকা রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে কয়েকজন পুলিশ অফিসারের পরিবারের সদস্যরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

তাছাড়া ওই মহিলাদের দাবি, এর আগে বহু উপভোক্তা নিয়মিতভাবে প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। কিন্তু চলতি মাসে হঠাৎই তাঁদের আবেদন রিজেক্ট হয়ে যায়। রিজেকশনের কারণ জানতে সকাল প্রায় ১০টা থেকেই তাঁরা বিডিও দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দপ্তরে কোনও আধিকারিক বা কর্মীকে দেখা যায়নি। আর তাই ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা দপ্তরের গেট বন্ধ করে সেখানে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরে দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জয়েন্ট বিডিও ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন। যাঁদের আবেদন রিজেক্ট করা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে বাতিলের সঠিক কারণ জানাতে হবে। ভেরিফিকেশনে কোনও ভুল হয়ে থাকলে বিডিও অফিসের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত করা উচিত এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা যাতে প্রকল্পের সুবিধা পান সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভকারী তোরসি গ্রামের এক মহিলা বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে যাঁরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁদের পরিস্থিতি দেখলেই বোঝা যায় তাঁরা প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় সুবিধার দাবিদার। যোগ্য সকল মানুষকে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হোক।’