• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

ক্যারি ব্যাগের দাম নেওয়া যাবে না, বড় রিটেল চেনগুলিকে কড়া বার্তা

শপিং মল বা বড় রিটেল স্টোরে পণ্য কেনার পরে ক্রেতার হাতে সেই পণ্য তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যারি ব্যাগের জন্য আর

ক্যারি ব্যাগের দাম নেওয়া যাবে না, বড় রিটেল চেনগুলিকে কড়া বার্তা

PIC- X

শপিং মল বা বড় রিটেল স্টোরে পণ্য কেনার পরে ক্রেতার হাতে সেই পণ্য তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যারি ব্যাগের জন্য আর আলাদা করে টাকা নেওয়া যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে এমনই বার্তা দিয়েছে কর্নাটকের দাভানগেরে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। একটি বড় রিটেল বিপণির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া ১০ টাকা ফেরতের পাশাপাশি মোট ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ও জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, কেনা পণ্য ক্রেতার হাতে ‘ডেলিভারেবল স্টেট’-এ তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ মূলত বিক্রেতারই বহন করার কথা। ফলে ক্যারি ব্যাগের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ আলাদা করে ক্রেতার ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য বাণিজ্যিক পন্থার সমান।
দাভানগেরের ওই বিপণি থেকে পণ্য কেনার পর এক গ্রাহকের কাছ থেকে ক্যারি ব্যাগের জন্য ১০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন তিনি। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, ক্যারি ব্যাগের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি ক্রেতাদের আগে থেকেই জানানো হয়েছিল এবং কেনার পর ব্যাগ নেওয়া ক্রেতার ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে কমিশন জানায়, আগে থেকে জানানো হয়েছিল কি না সেটি মূল প্রশ্ন নয়। পণ্য কেনার পরে সেটি নিরাপদে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাগের মূল্য আলাদা করে নেওয়া যায় কি না সেটিই আসল বিষয়।
এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে কমিশন উল্লেখ করেছে ১৯৩০ সালের সেল অফ গুডস্ অ্যাক্ট-এর ৩৬(৫) ধারা। ওই ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে অন্য কোনও চুক্তি না থাকলে পণ্যকে ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের উপযোগী প্রয়োজনীয় খরচ বিক্রেতাকেই বহন করতে হবে। কমিশনের মতে, দোকান থেকে কেনা পণ্য হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যারি ব্যাগ কোনও বিলাসবহুল বা অতিরিক্ত পরিষেবা নয়। অনেক ক্ষেত্রে সেটি পণ্য সরবরাহেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তার জন্য আলাদা মূল্য ধার্য করে সেই খরচ ক্রেতার উপর চাপানো বিক্রেতার আইনি দায়িত্ব এড়ানোর সামিল।
শুধু দাভানগেরেই নয়, এর আগেও দেশের বিভিন্ন ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের রায়ে একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। চণ্ডীগড়ের স্টেট ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন বিগ বাজার এবং রিলায়্যান্স রিটেল-এর মতো বড় রিটেল সংস্থার বিরুদ্ধে মামলায় ক্যারি ব্যাগের দাম নেওয়া নিয়ে বিক্রেতার দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এনেছিল।ডমিনোজ-এর ক্ষেত্রেও পণ্য বা খাবার ক্রেতার কাছে সরবরাহ করার উপযোগী প্যাকেজিংয়ের খরচ কে বহন করবে, তা নিয়ে একই আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। হায়দরাবাদের একটি জেলা ক্রেতা কমিশন আবার নিজস্ব ব্র্যান্ডের লোগো ছাপানো ক্যারি ব্যাগের জন্য টাকা নেওয়াকে অন্যায্য বাণিজ্যিক পন্থা হিসেবে দেখেছিল।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বছরের পর বছর ধরে বড় শপিং মল ও রিটেল চেনগুলিতে কেন ক্যারি ব্যাগের জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার প্রবণতা চলছে ? ছোট কাপড়ের দোকান, মুদির দোকান বা স্থানীয় বাজারের বহু বিক্রেতা যেখানে পণ্য বহনের জন্য বিনামূল্যে ব্যাগ দিয়ে থাকেন, সেখানে বিপুল পরিমাণে পণ্য কেনার পর বড় রিটেল সংস্থাগুলি কেন এই খরচও ক্রেতার উপর চাপাবে—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
ক্যারি ব্যাগের দাম নেওয়া নিয়ে কলকাতা-সহ এই রাজ্যেও এর আগে ক্রেতা সুরক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমন রায়ও এসেছে যে, কোনও সংস্থা যদি নিজেদের নাম বা লোগো ছাপানো ব্যাগ ক্রেতাকে দেয়, তার জন্য আলাদা করে টাকা নেওয়া যাবে না। তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এমন নয় যে কোনও পরিস্থিতিতেই কোনও ধরনের ব্যাগের জন্য টাকা নেওয়া বেআইনি। বিষয়টি নির্ভর করবে নির্দিষ্ট লেনদেনের পরিস্থিতি, ব্যাগের প্রকৃতি এবং সেটি পণ্য সরবরাহের প্রয়োজনীয় অংশ কি না তার উপর। কিন্তু বড় রিটেল বিপণিগুলিতে সাধারণ কেনাকাটার পর পণ্য বহনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যারি ব্যাগের দাম ক্রেতার উপর চাপানো নিয়ে সাম্প্রতিক এই রায় নিঃসন্দেহে বড় বার্তা ।

ফলে বিলের শেষে ক্যারি ব্যাগের দাম দেখে অভ্যস্ত ক্রেতাদের মধ্যেও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে—পণ্য কেনার পর সেটি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাগের খরচও কি তবে আমাকেই দিতে হবে ?  একই সঙ্গে বড় রিটেল সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক রীতিনীতি এবং ক্রেতার অধিকার নিয়েও নতুন করে নজরদারির দাবি জোরালো হয়েছে।