জিম্বাবোয়ের কারিবা লেকে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন শিশু রয়েছে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা আরও ২৬টি দেহ উদ্ধার করার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, মঙ্গলবার প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে একটি যাত্রীবোঝাই ফেরি লেকের জলে উল্টে যায়। ফেরিটি কারিবা শহর থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত ও মৎস্যজীবী এলাকাগুলির দিকে যাচ্ছিল। ওই অঞ্চলে রাস্তার অবস্থা খারাপ এবং গণপরিবহণের সুবিধাও অত্যন্ত সীমিত। ফেরিটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন বা এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে অতিরিক্ত যাত্রী ফেরিতে তোলা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন হিসেব অনুযায়ী, ফেরিতে যাত্রীর সংখ্যা ১৫৩ জন ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ ফেরিটিতে মাত্র ৯০ জন লোক উঠতে পারত। জিম্বাবোয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফেরিতে কতজন শিশু ছিল, তা জানা যায়নি। কারণ টিকিট কাটার নির্ধারিত বয়সের নীচে থাকা শিশুদের যাত্রীসংখ্যার মধ্যে ধরা হয়নি।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী নিয়ে সমঝোতার পথে ইরান-ওমান, যুদ্ধের আবহে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ
পরে পুলিশের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৬ জনের বয়স ১০ বছর কিংবা তারও কম। মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স ছিল মাত্র এক বছর। কারিবা লেক বিশ্বে বৃহত্তম কৃত্রিম লেকগুলির মধ্যে একটি। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১০৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে এই বিশাল জলাধার তৈরি হয়। লেকটি ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। কোনও কোনও জায়গায় আবার প্রায় ৪০ কিলোমিটার চওড়া।




