ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫১। আহত হয়েছেন একাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনও বিভিন্ন এলাকায় ধস নেমে রাস্তা বন্ধ থাকায় উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে মূল ভূমিকম্পের পরে ৩৪১ বার আফটারশক অনুভূত হয়।
দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পলাস অক্টাভিয়ানাস জানিয়েছেন, ৩৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন। সিক্কা রিজেন্সিতে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন। তালিবুরা গ্রামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে তাঁর পরিবারের ১৩ জন সদস্য প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
মাউমেরে শহরে বহু মানুষ ধসে পড়া বাড়ির বাইরে ত্রিপলের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। আহতদের একটি অংশকে স্থানীয় হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী একটি চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি করে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, অন্তত ১৫৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। আরও প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি নাজেওকেও রিজেন্সির প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে তিনটি হেলিকপ্টার ও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে। দুর্গম এলাকা ও ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপের কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। এখনও নাজেওকেওর বেশ কিছু এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারেনি। ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রদেশজুড়ে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ২০টিরও বেশি পেট্রোল পাম্প এখনও বন্ধ রয়েছে।
শনিবার ভোরে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপ ও তার সংলগ্ন এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়। কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প প্রাণ কাড়ল ৩৮ জনের, আহত বহু
ভূমিকম্পের ফলে এন্দে জেলায় একাধিক ভূমিধসের কারণে ট্রান্স-ফ্লোরেস হাইওয়ের একটি অংশও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৪৩৫ মাইল দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ফ্লোরেস দ্বীপের লাবুয়ান বাজো থেকে লারান্তুকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার আধিকারিক আব্দুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর ও দক্ষিণ উপকূল এবং আশেপাশের দ্বীপগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রয়োজনে দ্রুত উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




