অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আগেই মোবাইল কেনার টাকা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তাতে বেশ খুশি হয়েছিলেন তাঁরা। এবার এখানেই থেমে থাকল না শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মোবাইলের পর তার ভিতরে যে সিমকার্ড লাগে এবার সেটা কেনার টাকাও দেবে রাজ্য সরকার। এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর এই খবর চাউর হতেই খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মধ্যে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য এমনই সিদ্ধান্ত নিল নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর। এখন থেকে অফিসের কাজ করতে আর কোনও সমস্যা হবে না। সুতরাং গ্রামীণ কাজ খুব মসৃণভাবে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সরকারি অর্থে আগেই ফোন কিনেছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তার সঙ্গে সিমকার্ডও কেনার টাকা দেবে রাজ্য সরকার জানতে পেরে সেটা রবিবার রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা ধন্যবাদ জানাতে শুরু করেছেন। তবে যে সিমকার্ড সরকারি অর্থে কেনা হবে তা দিয়ে কোনওরকম ব্যক্তিগত কাজ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা করতে পারবেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নামে নম্বর হলেও সেটি সংশ্লিষ্ট আইসিডিএসের যোগাযোগ করার মাধ্যম হয়ে উঠবে। মোবাইল নম্বর আইসিডিএস সেন্টারের গায়ে বড় বড় করে লিখে রাখতে বলেছেন দপ্তরের আধিকারিকরা।
কদিন আগে প্রত্যেক জেলায় এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭৭ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে রাজ্য সরকারের দেওয়া টাকা দিয়ে মোবাইল কিনে দেওয়া হয়েছে। এতদিন ওই মোবাইল ফোনে তাঁরা নিজেদের কেনা বা ব্যবহার করা সিমকার্ড ভরে কাজ করছিলেন। সেসব নম্বর ছিল ওই কর্মীদের একেবারে ব্যক্তিগত। মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট নামক একটি সফটওয়্যার এইসব মোবাইলে ইনস্টল করা হয়েছে যাতে যে কাজ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা করেন তার উপর সরাসরি নজর রাখা যায়। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কাজ ঠিক মতো হচ্ছে না। উল্টে তাঁরা সরকারিভাবে পৃথক সিমকার্ড দাবি করেছিলেন। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় তার জন্য দপ্তর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সিমকার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাছাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সিমকার্ড কেনার পর সেই বিল জমা দেবেন অফিসে। তারপর সিমকার্ড কেনার টাকা তাঁদের দিয়ে দেওয়া হবে। সরকারিভাবে একটি সিমের দাম যেন ৩১৯ টাকার বেশি না হয় সেটাও বেঁধে দিয়েছে দপ্তর। সরকারি সিম কার্ড পেয়ে সেটার নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র অঙ্গনওয়াড়ির যেসব কাজ করার দায়িত্ব রয়েছে কর্মীদের সেটাই তাঁরা করবেন। এক আধিকারিক বলেন, এই নম্বর দিয়ে সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না। এমনকী রাজ্য সরকার ছাড়া অন্য কোনও কাজের ওটিপির জন্যও এই নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন না কর্মীরা। তবে কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী যদি বদলি, অবসর বা মারা যান সেক্ষেত্রে তাঁর পরিবর্তে যিনি আসবেন তাঁকে ওই সিম কার্ড দিয়ে দিতে হবে।




