• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 2 June, 2026

মহিলাদের জন্য স্মার্ট কার্ডের পরিকল্পনা

রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে ফাঁকফোকর ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আজ সা্ংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমমার আগরওয়াল বলেন,  রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে ফাঁকফোকর ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখে কোথায় রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং কীভাবে সেই ক্ষতি রোধ করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মহিলাদের জন্য চালু হওয়া বিনামূল্যের বাস পরিষেবার বিষয়টিও উঠে আসে। বর্তমানে এই পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে বিনামূল্যের টিকিট ব্যবস্থার মাধ্যমে। তবে ভবিষ্যতে পরিষেবাটিকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে স্মার্ট কার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। স্মার্ট কার্ড চালু হলে যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ, পরিষেবার ব্যবহার পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক হিসাব আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের মতে, এর ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাও সহজ হবে।

Advertisement

অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি টোল আদায়ের অভিযোগ নিয়েও বৈঠকে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, বেআইনি টোল আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের মতে, সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনও কর্মকাণ্ডই বরদাস্ত করা হবে না।

Advertisement

এছাড়া হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রেলওয়ের জমি এবং বিভিন্ন সরকারি জায়গায় অবৈধ দখলদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, রাজস্ব বৃদ্ধি, দুর্নীতি রোধ এবং জনপরিষেবা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

Advertisement