এক দিকে আইএসএলের পরিচিত মুখ, অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গল। অন্য দিকে টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত ভারতীয় সেনার দল। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই লড়াইটা শুধু দুই দলের নয়, দুই ভিন্ন মানসিকতারও।
শুরুতে ধাক্কা খেলেও দারুন ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ এ-তে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে ০-১ হার দিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল লাল-হলুদের। কিন্তু তার পর যেন বদলে যায় ছবিটা। সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসকে ৮-০ এবং সাউথ ইউনাইটেড এফসিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। সেরা দুই রানার্স-আপ দলের একটি হিসাবে জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।
শুধু এই টুর্নামেন্ট নয়, সাম্প্রতিক সাফল্যও ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে আল আরাবিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে লিগ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। সেই জয়ের রেশ নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে নামতে চলেছে লাল-হলুদ। সম্ভবত সেই ম্যাচের দল নিয়েই আজ সন্ধ্যায় ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে লাল-হলুদ বাহিনী।
হাবাসের দলের শক্তি মাঝমাঠ এবং রক্ষণের ভারসাম্যে। মহম্মদ রশিদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, আনোয়ার আলির রক্ষণে নেতৃত্ব এবং দানি রামিরেজের সৃজনশীলতা— সব মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গলের সামনে একাধিক আক্রমণের রাস্তা রয়েছে। বিশেষ করে সেনা দলের জমাট রক্ষণ ভাঙতে রামিরেজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কলকাতায় খেলা হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই গ্যালারির বড় অংশ ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকবে। পরিচিত পরিবেশ এবং সমর্থকদের আওয়াজ লাল-হলুদকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠিত দলের বিরুদ্ধে খেলার ভয় সেনা দলের নেই, তা গ্রুপ পর্বেই প্রমাণ করেছে তারা।
নাম, খ্যাতি বা অভিজ্ঞতার বিচারে পিছিয়ে থাকলেও ইস্টবেঙ্গলকে ভয় পাচ্ছে না ইন্ডিয়ান আর্মি ফুটবল টিম।
সেনা দলের কোচ অ্যান্টনি রমেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল খুব শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ দল। ওদের দলে অনেক ভাল মানের ফুটবলার রয়েছে। আমরা ওদের সম্মান করি, কিন্তু ভয় পাই না। আমাদের সংগঠিত থাকতে হবে, দলগত ভাবে জমাট থাকতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনঃসংযোগ ধরে রাখতে হবে।’
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ইন্ডিয়ান আর্মি। গ্রুপ বি-তে তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই জিতে পুরো ন’পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা।
ডুরান্ডে অভিষেক হওয়া সম্বলেশ্বরী স্পোর্টিংকে ১-০, বাগপত এফসিকে ৪-০ এবং মহমেডান স্পোর্টিংকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সেনা দল। তিনটি ম্যাচের ফলই দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিপক্ষের খেলার ধরন অনুযায়ী নিজেদের বদলে নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে তাদের।
শুধু রক্ষণ সামলে খেলার পথে হাঁটেনি ইন্ডিয়ান আর্মি। সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠেছে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে ভয় পেয়ে নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যাওয়ার বদলে রক্ষণ এবং আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই গ্রুপ পর্ব পার করেছে সেনা দল। তাদের কোচ রমেশের মতে, ইস্টবেঙ্গলের মতো দলের বিরুদ্ধে সেই শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাই কোচ রমেশের বার্তা একটাই— ‘আর্মি স্পিরিট, চরিত্র এবং লড়াইয়ের মানসিকতা’ নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাঁর দলকে।
সামনে শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গল, গ্যালারিতে লাল-হলুদের সমর্থনের ঢেউ। তবু সেনা শিবিরের বিশ্বাস, ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে নামের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে মাঠের লড়াইয়ের মানসিকতাই।
ম্যাচ: ইস্টবেঙ্গল বনাম ভারতীয় সেনাবাহিনী
টুর্নামেন্ট: ডুরান্ড কাপ (কোয়ার্টার ফাইনাল)
ভেনু: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন
কিক-অফ: সন্ধ্যা ৭.০০




