• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

‘ওকে লড়তে দিন, ভোট শান্তিপূর্ণ হতে দিন’, মিলন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

এই সওয়াল-জবাবের পরই, এতদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

‘ওকে লড়তে দিন, ভোট শান্তিপূর্ণ হতে দিন’, মিলন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

Congress Candidate Milan Pradhan Photo-SNS

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তবর্তী জামিনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের আবেদন করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার সেই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই কোনও পদক্ষেপ নয়, আগে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাক বলে জানালেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে স্বস্তি দিল। তাঁকে আগে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ, আপাতত নির্বাচনে অংশ নেবেন মিলন প্রধান। তবে ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেটা নজরে রাখতে হবে। উপনির্বাচনের পর আবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে।

এদিকে শুধু নন্দীগ্রামেই নয়, উপনির্বাচন আছে রেজিনগরেও। তা নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আবহে ছিল মিলন প্রধান মামলার শুনানি। পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশ। তারপর জামিন মেলে। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার যায় সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যদিও এদিনই শুনানি এবং কোনও নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। আদালত তা খারিজ করেছে। এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি আদালতেই জানান, ২০০৭ সালের ঘটনা এটি। এখানে তাঁর সমস্যা আছে। তিনি এই মামলায় আইনজীবী হিসেবে ছিলেন।

অন্যদিকে এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আদালতে তাঁর সওয়াল, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। এমনকী খুন, বোমা ছোঁড়ার মতো অভিযোগও আছে। তাই অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করা হোক। যদিও সেটা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন মিলনের আইনজীবী। এই নিয়ে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবে নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘২০০৭ সালের ঘটনা এটি। জমি সংক্রান্ত বিবাদ। ৬৬ জনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অভিযোগ হয়েছিল। ওকে লড়তে দিন, ভোট শান্তিপূর্ণ হতে দিন।’

এই সওয়াল-জবাবের পরই, এতদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও কেন পুলিশ এতদিন ব্যবস্থা নেয়নি? সেই প্রশ্নও তোলেন প্রধান বিচারপতি। এক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে কড়া পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। মামলার শুনানিপর্বে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেন, ‘এই মামলা গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। জামিনঅযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল বহু বছর আগে।’ পাল্টা মিলনের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির জবাব, ‘আগামীকাল নির্বাচন। ২১ দিনের অন্তবর্তী জামিনে আছেন মিলন প্রধান। এখন ২০০৭ সালের এফআইআরের কথা বলা হচ্ছে।’ তবে এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের যে অপচেষ্টা করেছিল সেটা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে ব্যর্থ হয়েছে। এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।’