শুক্রবার ওড়িশার পুরী রেলস্টেশনের কাছে একটি মেমু যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে বড় দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো গিয়েছে বলে খবর। যার জেরে যাত্রী ও রেলকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিন দুপুরে পুরী স্টেশনে ঢোকার মুখে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রেন। স্টেশনে ঢোকার প্রায় ৫০০ মিটার আগে প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৩-এর কাছে বেলাইন হয়ে যায় তালচের-পুরী মেমু। ট্রেনটির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হলেও ধীর গতিতে চলায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রীর হতাহত হওয়ার খবর নেই।
এই ঘটনার জেরে ট্রেনটি ঘটনাস্থলেই আটকে পড়ে এবং রেল কর্তৃপক্ষ পরিষেবা চালুর কাজ শুরু করলেও যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। খবর পাওয়ার পরপরই রেলকর্মী ও আরপিএফের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা সুরক্ষিত করতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পদক্ষেপ করে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তালচের থেকে পুরীর দিকে আসছিল মেমু ট্রেনটি। পুরী স্টেশনের কাছে পৌঁছনোর সময়ে আচমকাই ইঞ্জিনের চাকা লাইন থেকে পিছলে সরে যায়।
#WATCH | Odisha: A mishap was averted near Puri Station. The Talcher to Puri MEMU Passenger train derailed just 500 meters away from Puri Station. The incident occurred near Platform No. 3. As the train was moving at a slow speed, there was no major damage. No injuries have been… pic.twitter.com/1RNWS9Lau8
— ANI (@ANI) August 14, 2026
এই দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত ইঞ্জিনটি সরানোর কাজ শুরু হয়। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক পরীক্ষা করে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করারও চেষ্টা চলছে। পুরী স্টেশন ওড়িশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল হাব। জনপ্রিয় পর্যটন ডেস্টিনেশন হওয়ার কারণে ভিড় সবসময়ই থাকে। প্রত্যেকদিন বহু যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। এমন একটি ব্যস্ত স্টেশনে ঢোকার মুখে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তবে এতকিছুর পরও অন্যান্য ট্রেনের চলাচল করার ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়েনি।
রেলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন পরিষ্কার এবং ইঞ্জিন সরানোর কাজ শুরু করেন। এই ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ট্র্যাকের কোনও সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণে ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হলো সেটা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি বেশি গতিতে ট্রেনটি চলার সময়ে এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। হতাহতের খবর না থাকায় স্বস্তি মিলেছে। রেল কর্তৃপক্ষ একটি বিস্তারিত পরিদর্শন এবং তদন্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




