একসময় হাতে ছিল বন্দুক। জীবন কাটত বস্তারের ঘন জঙ্গলে। পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে দিন কাটানো ছিল তাঁদের (Former Women Naxals) নিত্য দিনের সঙ্গী। এদিন তাঁরাই (Former Women Naxals) সবার সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফ্যাশন র্যাম্পে হাঁটলেন। শুধু হাঁটেনইনি মঞ্চও মাতিয়ে তুললেন তাঁরা (Former Women Naxals)। ছত্তীশগড়ের রায়পুরে জাতীয় তাঁত দিবসে একটি ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে র্যাম্পে হাঁটতে দেখা গেল প্রাক্তন মহিলা নকশালদের (Former Women Naxals)। তাঁতের শাড়ি পরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁরা এসে দাঁড়ালেন দর্শকদের সামনে। তাঁদের (Former Women Naxals)উপস্থিতি মুগ্ধ করে দেয় দর্শকদের। করতালিতে ভরে উঠে ফ্যাশন শো।
বন্দুক ছেড়ে মুলস্রোতে ফিরে এসেছেন এই প্রাক্তন মহিলা নকশাললা (Former Women Naxals)। আর তাঁরাই (Former Women Naxals) জাতীয় তাঁত দিবসে অংশ নিয়ে ভারতের সমৃদ্ধশালী হস্ততাঁত ঐতিহ্যকে সকলের সামনে তুলে ধরলেন। একসময় বস্তারের দুর্গম জঙ্গলে ছিল এঁদের স্থায়ী ঠিকানা। সেখানেই গুলির সঙ্গে লড়াই করে কাটত জীবন। আর তাঁরাই জাতীয় তাঁত দিবসে হাসিমুখে র্যাম্পে হেঁটে নিজেদের নতুন জীবনের বার্তা দিলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছত্তীশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। গত ৭ আগস্ট রায়পুরে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি মামলায় ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, ওশাদব্যাঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি
এর আগে চলতি সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই (Vishnu Deo Sai) এবং উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন ও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বস্তারের অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে বিশেষ ছাড়ের আবেদন জানান। দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী এলাকা হিসেবে পরিচিত বস্তার।
বহু বছর ধরে নিরাপত্তা অভিযান এবং গোয়েন্দা নির্ভর মাওবাদী বিরোধী অভিযানের পর বস্তারকে ‘নকশালমুক্ত’ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ওই অঞ্চলের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ছত্তীশগড়ের ঘন জঙ্গলঘেরা বস্তার দীর্ঘ দিন ধরেই মাওবাদীদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ছিল। গেরিলা যুদ্ধ, ল্যান্ডমাইন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলার মতো ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল।
#WATCH | Raipur, Chhattisgarh: Former women Naxals, who once carried weapons in the dense forests of Bastar, walked the ramp to huge applause at a National Handloom Day event in Raipur after joining the mainstream. (07.08) pic.twitter.com/51mc8lEXWE
— ANI (@ANI) August 13, 2026
চলতি বছরের মার্চে বস্তারে ১০৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের (Former Women Naxals) মাথার দাম ছিল মোট ৩.২৯ কোটি টাকা। তাঁরা (Former Women Naxals) দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছত্তীশগড় সরকারের ‘পুনা মার্গেম পুনর্বাসন থেকে পুনর্জাগরণ‘ কর্মসূচির আওতায় এই আত্মসমর্পণ করা হয়। আত্মসমর্পণকারী দের মধ্যে ছিলেন ৪৪ জন মহিলা এবং মাওবাদী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য।
এরপর মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বস্তার সফরে গিয়ে অঞ্চলটিকে নকশালমুক্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এবার বস্তারে আস্থা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং মানুষের জীবযাত্রার উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তনের যাত্রা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আগ্নেয়াস্ত্র ছেড়ে জঙ্গলের জীবন থেকে বেরিয়ে এসে (Former Women Naxals) এভাবে তাঁতশাড়ি পরে র্যাম্পে হাঁটা প্রাক্তন মহিলা নকশালদের (Former Women Naxals) এই উদ্যোগ শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াই নয় বরং মূলস্রোতে ফিরে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেয়।
দেখুন:




