মাইলফলক ছুঁয়েছেন। রেকর্ডের পাতায় আরও একবার নিজের নাম লিখেছেন। কিন্তু বিরাট কোহলির (Virat Kohli) কাছে সে সব যেন নেহাতই স্বাভাবিক। তাঁর আসল লক্ষ্য দলের জন্য নিজের কাজটা করে যাওয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রান করে ভারতকে আট উইকেটে জেতানোর পাশাপাশি এক দিনের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের গণ্ডিও পেরিয়ে গেলেন কোহলি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরের পরে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসাবে এই নজির গড়লেন তিনি।
কিন্তু ম্যাচের পরে তাঁর মুখে রেকর্ডের উচ্ছ্বাসের চেয়ে বেশি শোনা গেল দলের হয়ে খেলার তৃপ্তির কথা। কোহলি (Virat Kohli) বললেন, ‘এই মাইলফলকগুলো কখনওই আমার লক্ষ্য ছিল না। পরিস্থিতি বুঝে দলের জন্য কাজটা করে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। এত দিন খেলতে পেরেছি বলে আমি অবশ্যই খুব কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। মাথা নীচু করে কাজ করে যেতে চাই। অনেকেই এই জায়গায় আসতে চায়, আমরা এখানে থাকতে পেরেছি—এটাই আমাদের সৌভাগ্য।’
দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডেতে ফিরে কোহলির ব্যাটে যেন দেখা গেল অন্য এক গতি। দ্রুত রান করার চ্যালেঞ্জই এখন তাঁকে নতুন করে তাতাচ্ছে। নিজের ব্যাটিং নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আমাকে আরও দ্রুত রান করার, দু-এক ধাপ উপরে উঠে খেলার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। নিজের কেরিয়ারে নতুন একটা দিক খুঁজে বার করাটা আমাকে রোমাঞ্চিত করে। সেটা ভারতের হয়ে খেলা হোক বা আইপিএলে। মুক্ত মনে খেলতে গেলে শরীরকে ফিট রাখতে হয়। তখন নিজের খেলা ঠিক ভাবে মাঠে প্রয়োগ করা যায়।’
5️⃣5️⃣ ODI centuries young 😉
🎥 @imVkohli on unlocking a new version of himself 🫡#TeamIndia | #INDvWI | @mflone_ pic.twitter.com/F5v9ZHMh3E
— BCCI (@BCCI) September 27, 2026
সামনেই বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্য যে মাথায় রয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তবে আপাতত প্রতিটি দিন উপভোগ করতেই চান তিনি। কোহলির কথায়, ‘বিশ্বকাপ এক বছর পর। আমার লক্ষ্য কী, সেটা আমি জানি। এখন শুধু খেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করতে হবে। বাউন্ডারি থেকে বাউন্ডারি দৌড়তে হবে, তীব্রতা দেখাতে হবে, নিজের কাজগুলো এক এক করে করে যেতে হবে। আমি শুধু প্রতিটি দিন উপভোগ করতে চাই।’
আরও পড়ুন: অনুশীলনের জন্য মাঠ পাচ্ছেন না হাবাস, দলবল নিয়ে কলকাতার বাইরে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন?
৩৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে নিজের ক্রিকেট-যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়েও আবেগপ্রবণ কোহলি (Virat Kohli) । এত আলো, খ্যাতি, প্রত্যাশার মাঝেও শিকড়ের কথা ভুলে যেতে চান না তিনি। বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের এক বার পিছন ফিরে দেখতে হয়—কোথা থেকে শুরু করেছিলাম। পৃথিবীর এই ব্যস্ততা, এত মনোযোগ, খ্যাতি এবং ভালবাসার মধ্যে আমরা কোথা থেকে এসেছি, সেটা ভুলে যাওয়া খুব সহজ। ভারতের হয়ে যখনই মাঠে নামি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করি। এমনও তো হতে পারত যে আমি এখানে দাঁড়িয়েই থাকতাম না, ভারতের হয়ে খেলতেই পারতাম না।’
আর তাই মাইলফলক নয়, এখনও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরিশ্রম এবং দলের হয়ে সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া। কোহলির (Virat Kohli) বার্তা, ‘কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে, মুখে হাসি রাখতে হবে এবং অন্যদেরও হাসাতে হবে। মাঠে নামার পরে মাঠের বাইরের অন্য কোনও বিষয় নিয়ে ভাবা যাবে না। নিজের শরীরকে উজাড় করে দিতে হবে। কোনও অজুহাত চলবে না।’
তিরুবনন্তপুরমে তাঁর ১৩৯ রানের ইনিংসের সঙ্গে শুভমান গিলের ১১০ রান মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য ভারত পেরিয়ে যায় মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে। দু’জনের মধ্যে ১৫১ রানের জুটি ম্যাচটিকে একেবারে একপেশে করে দেয়। আর কোহলির (Virat Kohli) ব্যাটে আসে ৫৫তম এক দিনের শতরান, সঙ্গে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক। কিন্তু তাঁর নিজের কথাতেই পরিষ্কার—রেকর্ড তাঁর কাছে মাইলফলক মাত্র, গন্তব্য নয়।
দেখুন:




