বিধায়কদের কর্মশালায় ছবি তোলার ঘটনায় বিধানসভার মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের সাসপেনশন ঘিরে তীব্র বিতর্কের অবসান। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের হস্তক্ষেপেই এই সিদ্ধান্ত।
গত ৪ অগস্ট বিধায়কদের কর্মশালায় ছবি তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্শালকে সাসপেন্ড করেছিলেন বিধানসভার সচিব। অভিযোগ, স্পিকারকে না জানিয়েই নেওয়া হয়েছিল ওই পদক্ষেপ। বিষয়টি সামনে আসার পরেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন খোদ স্পিকার। বিধানসভার পরিষদীয় দপ্তরও মার্শালের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানায় বলে সূত্রের খবর।
এরই মধ্যে সচিবের নির্দেশে মার্শালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু সেই তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ কোনও তথ্য মেলেনি বলেই বিধানসভা সূত্রে খবর। ফলে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেলে সাসপেনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। বিধানসভা সচিবালয় থেকে ফোন করে মার্শালকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সাসপেনশন প্রত্যাহারের পর বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনেও ফের নিজের দায়িত্বে দেখা গেল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়কে। ফলে ছবি তোলার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হওয়া সাসপেনশন বিতর্ক আপাতত ইতি টানল।
উল্লেখ্য, বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মার্শালকে সাসপেন্ড করার ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধায়কদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি বিধায়কদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সেই কর্মসূচিতেও মার্শাল দায়িত্বশীল আচরণ করেননি।
সাসপেন্ডের প্রসঙ্গে দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমাকে কেন সাসপেন্ড করা হল, তা বিধানসভার উচ্চ পদাধিকারী বলতে পারবেন। আমি হয়তো অনেক কিছু জেনে গিয়েছিলাম।”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মার্শালদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশ মেনে কক্ষের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্পিকারের নির্দেশে মার্শাল ডেকে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও আলোড়ন ফেলেছিল।




