হাওড়া পুরনিগমের পুরভোট Howrah Municipality Election নিয়ে বিধানসভায় আনা বিল ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। ২০১৮ সালে নির্বাচিত পুরবোর্ডের Howrah Municipality Election মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসকের মাধ্যমে পুরনিগমের কাজ চলছে।
বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী উমেশ রাই অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে পুরভোট না করিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সময় মাত্র ছ’মাসের জন্য প্রশাসক বসানোর কথা বলা হলেও, পর পর মেয়াদ বাড়তে বাড়তে প্রায় আট বছর কেটে গিয়েছে।
এবার হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচিত Howrah Municipality Election বোর্ড ফিরবে কবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বুধবার বিধানসভায় হাওড়া পুরনিগম (সংশোধনী) বিল Howrah Municipality Election, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় এই বিষয়টি ঘিলে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়। নতুন বিলে হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচিত Howrah Municipality Election কাউন্সিলরের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার প্রস্তাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এন চন্দ্রশেখরনের, মেয়াদ শেষ আগামী বছর
অন্যদিকে, বিলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম আগের সরকারের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, পরিষেবার উন্নতির কথা মাথায় রেখেই বালিকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।
বিতর্কের মাঝেই বিজেপি বিধায়ক জিতেন তিওয়ারির সঙ্গে ফিরহাদের বাদানুবাদে উত্তাপ আরও বাড়ে। জিতেনের আপত্তির জবাবে ফিরহাদ বলেন, তিনি জিতেনের থেকে সিনিয়র এবং তাঁকে বলতে হবে না কোনটা তিনি বলতে পারবেন। এমনকি, ‘ভুলে যেও না, তুমি আমার আন্ডারেই মেয়র ছিলে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর পর উমেশ রাইকে নিশানা করে ফিরহাদের কটাক্ষ, ‘ঠিকাদারি নিয়ে কথা বলছেন আপনারা। আপনাকেই তো ঠিকাদারের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেল।‘ এই মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল হয়।
বিলের সমর্থনে বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালও (Agnimitra Paul) সরব হন। তাঁর (Agnimitra Paul) স্পষ্ট বার্তা, হাওড়ায় ভোট কবে হবে, তা কোনও রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে বসে ঠিক হবে না—নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাওড়ার জল জমা, বেআইনি নির্মাণ, পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul)। তাঁর (Agnimitra Paul) প্রশ্ন, ‘পনেরো বছর সময় পেয়েছিলেন, জল ও নিকাশির পাইপের কাজ হল না কেন?’
বিধানসভায় জানানো হয়েছে, হাওড়ার রাস্তা, পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৮টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের পুরভোট-জট কাটিয়ে হাওড়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথ খুলছে কি না, সেটাই এখন দেখার।।
দেখুন: শহরের রাস্তা উন্নয়নে অগ্নিমিত্রার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা




