এক ম্যাচের এই লড়াইয়ে জয় মানেই এএফসি (AFC) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর মূল পর্বের গ্রুপে জায়গা পেয়ে যাওয়া। ফলে নতুন মরসুমে এটাই লাল-হলুদের (EBFC) প্রথম বড় পরীক্ষা। কিন্তু এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই বেশ কঠিন হতে চলেছে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ইস্টবেঙ্গলের (EBFC)। লোকবল, প্রস্তুতি—দুইয়েরই অভাব রয়েছে তাদের। এবং তা স্বীকারও করে নিয়েছেন তাদের স্প্যানিশ কোচ।
গত মরসুমে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (EBFC)। ২১ মে কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীকে ২-১ হারিয়ে আইএসএল খেতাব জিতেছিল তারা। কিন্তু সেই সাফল্যের পরেই বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। কোচ অস্কার ব্রুজন দল ছেড়েছেন, ইমামি-র সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্কও শেষ হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন অভিজ্ঞ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ( Antonio Lopez Habas)। নতুন কোচের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষাই আজকের ম্যাচ, কুয়েতের আল-আরাবির ( Al Arabi বিরুদ্ধে।
ডার্বিতে হারের পরেই কঠিন পরীক্ষা
ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে ০-১ হেরেছে ইস্টবেঙ্গল (EBFC)। পরের দুই ম্যাচে তারা অনায়াসে জিতলেও প্রতিপক্ষ কলকাতা লিগের দলের মানেরও ছিল না। তাই প্রস্তুতি নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন হাবাস। বুধবার তাঁকে মাঠে দল নামাতে হবে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আল-আরাবি ২০২৫-২৬ কুয়েতি প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় হয়েছিল। ম্যাচটি হবে এক লেগের—অর্থাৎ ৯০ মিনিটে ফল না হলে অতিরিক্ত সময় এবং প্রয়োজন পড়লে টাইব্রেকারেও গড়াতে পারে।

এ রকম একটা ম্যাচে ভালো প্রস্তুতির প্রয়োজন, তা যে নেই ইস্টবেঙ্গলের (EBFC), তা ম্যাচের আগেই স্বীকার করে নিলেন স্প্যানিশ কোচ। স্পষ্ট কথার মানুষ হিসেবে পরিচিত হাবাস বলেই দিলেন, ‘এই ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য সময় কোথায় পেলাম আমরা? এই দলের যা সম্ভাবনা, তার ৬৫ শতাংশ হয়তো আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। তবু আশা করছি বুধবারের ম্যাচে বুদ্ধি দিয়ে কৌশলী ফুটবল খেলে হয়তো সফল হতে পারব’। হাবাসের ( Antonio Lopez Habas) মুখে এমন ‘হয়তো, কিন্তু, সম্ভাবনা’ শোনার অভ্যাস নেই কলকাতার সাংবাদিকদের, যাঁরা তাঁকে বহু বছর ধরে দেখছেন।
রক্ষণ নিয়ে চিন্তা
হবে নাই বা কেন? এই ম্যাচে কুয়েতের দল যেখানে হাফ ডজন বিদেশি নিয়ে নামবেন, সেখানে হাবাসের দল পাবে মাত্র দুই বিদেশিকে। তাদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি রক্ষণে। হাঁটুর চোটের কারণে খেলতে পারবেন না স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাক নাচো মনসালভে। আবার নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গা লাল কার্ডের জন্য সাসপেন্ড। ফলে আনোয়ার আলি, হার্দিক ভাট, সন্দীপ মান্ডি এবং জয় গুপ্তের উপরই রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব বর্তাবে। গোলে প্রভসুখন সিং গিল-ই এক নম্বর বাছাই।
বিদেশিদের মধ্যে দানি রামিরেজ এবং প্যালেস্তাইনের মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ থাকছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস ইকোনোমিডিস পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় নেই। তাঁকে পরের দিকে নামাতে পারেন কোচ। হাবাসের ৪-২-৩-১ ছকে রশিদের সঙ্গে জিকসন সিং মাঝমাঠ সামলাতে পারেন। আক্রমণে জেসিন টিকে, রামিরেজ এবং পিভি বিষ্ণুর সঙ্গে এডমুন্ড লালরিন্দিকা খেলতে পারেন।
যদিও এমন কোনও প্রথম এগারোর কথা হাবাস নিজে বলেননি। তিনি বলছেন, ‘আমাদের হাতে বিদেশি স্ট্রাইকার বা ডিফেন্ডার কোনোটাই নেই। তা সত্ত্বেও আমাদের ভালো খেলে জিততে হবে। ম্যাচ অতিরিক্ত সময় বা টাই ব্রেকারেও গড়াতে পারে। সে জন্যও আমাদের তৈরি থাকতে হবে’।
🔥 THE BATTLE FOR ASIA BEGINS! 🔥
The stage is set. The stakes are huge. 🌏🏆
🔴🟡 East Bengal FC vs Al-Arabi SC 🟢⚪
🏆 AFC Champions League Two | Preliminary Round
📅 12 August | ⏰ 7:00 PM IST
📍 VYBK Stadium, Kolkata90 minutes. One mission. 🇮🇳🔥
MAKE ASIA HEAR THE ROAR!… pic.twitter.com/W7hkPy45TS— EAST BENGAL the REAL POWER (EBRP)❤💛 (@EBRPFC) August 12, 2026
আল-আরাবির আক্রমণ সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ
কিন্তু সত্যিই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা কতটা? আল-আরাবির আক্রমণে বড় ভরসা প্যালেস্টাইনের আন্তর্জাতিক ফুটবলার জায়েদ কুনবার। ২০২৩ এশিয়ান কাপে প্যালেস্টাইনের দলে ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ব্রাজিলীয় লুকাস শালন এবং নাইজেরিয়ার আনায়ো আইওলা ইস্টবেঙ্গলের (EBFC)রক্ষণকে যথেষ্ট চাপে ফেলতে পারেন। আইওলার গতি এবং একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে ডিফেন্ডারকে কাটানোর ক্ষমতা বিশেষ ভাবে নজরে রাখার মতো।

মাঝমাঠে ইথিওপিয়ার কেনান মালেঙ্কা শারীরিক শক্তি এবং সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আল-আরাবিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারেন। রক্ষণেও সেনেগালের অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক জোহের খাদিম রাসুলকে দলে নিয়েছে কুয়েতের ক্লাবটি। কলকাতায় আসার আগে বেশ ভালো ভাবে প্রাক মরসুম প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে তারা। চারটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে ফেলেছে এর মধ্যে। কলকাতায় তারা রয়েছেন গত চার দিন ধরে। ফলে এখানকার পরিবেশ, আবহাওয়ার সঙ্গেও পরিচিত হয়ে গিয়েছে তারা।
দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ গোরান সাবলিচ তাঁর বিশেষ বন্ধু প্রাক্তন ভারতীয় কোচ ইগর স্টিমাচের কাছ থেকে ইস্টবেঙ্গল (EBFC) সম্পর্কে ধারনাও নিয়ে এসেছেন। ইস্টবেঙ্গলের (EBFC) প্রস্তুতির বেহাল দশার কথা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। তা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখছেন না। বললেন, ‘নিজেদের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে খেলাই কঠিন হয়ে যায়। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। এখানে আসার আগে আমার বন্ধু স্টিমাচের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওর কাছ থেকে শুনেছি, এখানকার লিগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। ইস্টবেঙ্গল (EBFC) সেই লিগের চ্যাম্পিয়ন। যথেষ্ট ভালো দলের বিরুদ্ধেই নামছি আমরা’।
গ্রুপপর্বে ওঠার হাতছানি
শুধু জয় নয়, এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেশি। এই ম্যাচে জিতলে আল-খালদিয়া এবং আল-নাহদার সঙ্গে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর গ্রুপ পর্বের পট ৪-এ জায়গা পাবে ইস্টবেঙ্গল (EBFC)। গ্রুপ পর্বের ড্র হবে ১৮ অগস্ট কুয়ালালামপুরে। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের গ্রুপ পর্বে থাকবে ১৬টি দল, চারটি পটে ভাগ করে হবে ড্র।
তাই কৌশলী হাবাসের ( Antonio Lopez Habas) বুদ্ধি অনুযায়ী খেলে বুধবার যুবভারতীতে নতুন করে শুরু করতে হবে লাল-হলুদ বাহিনীকে। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এ বার মহাদেশীয় মঞ্চে নিজেদের শক্তি প্রমাণের পালা লাল-হলুদের।
দেখা যাবে কখন, কোথায়?
মাঠে গিয়ে প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে পারলে তো সবচেয়ে ভালো। কিন্তু কোনও কারণে যদি মাঠে যেতে না পারেন, তা হলেও অসুবিধা নেই। ফ্যানকোড অ্যাপ তো নিশ্চয়ই ডাউনলোড করা আছে মোবাইলে। সেই অ্যাপে গিয়ে দেখে নিতে পারেন এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। কিক অফের সময় সন্ধ্যা সাতটা।
দেখুন:




