• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 11 August, 2026

ইরানের হামলার হুমকি! তুরস্ক থেকে গোপনে অন্য বিমানে চড়ে পলায়ন ট্রাম্পের!

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারায় পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে গোপনে অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে তিনি মার্কিন বায়ুসেনার সি-৩২এ বিমানে ওঠেন

ইরানের হামলার হুমকি! তুরস্ক থেকে গোপনে অন্য বিমানে চড়ে পলায়ন ট্রাম্পের!

Image: ANI

ইরানের তরফে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর তুরস্ক থেকে গোপনে অন্য একটি বিমান চড়ে বেরিয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) । এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। গত মাসে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প (Donald Trump) । ফেরার সময় তাঁর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোপনে এই বিমানবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর।

ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার সময় ট্রাম্প (Donald Trump) কাতারের দেওয়া বিমানটি ব্যবহার করেছিলেন। আঙ্কার ছাড়ার সময় আচমকাই  ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠেন তিনি। প্রকাশ্যে সেই বিমানেই ট্রাম্প (Donald Trump)  ব্রিটেনের উদ্দেশে রওনা দেন বলে দেখানো হলেও, বাস্তবে বিমানবন্দরে অন্য একটি ছোট বিমানে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারায় পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে (Donald Trump) বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে গোপনে অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে তিনি মার্কিন বায়ুসেনার সি-৩২এ বিমানে ওঠেন। নিরাপত্তার কারণে এই পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃত বেড়ে ১৩২, নিখোঁজ ২০০০

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে  (Donald Trump) দেওয়া হুমকিকে বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে করা হয়েছিল। সেই কারণেই পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানকে অনেক সময় ‘ডিকয় বা বিভ্রান্তিমূলক’ মূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এমন ঘটনা এর আগে ২০০০ সালেও ঘটেছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তান সফরের সময় এই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন।

সাংবাদিকদেরও রাখা হয়েছিল অন্ধকারে

পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের বিমানের জানলার শেড বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এমনকি হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীও মনে করেছিলেন যে ট্রাম্প (Donald Trump) ওই বিমানেই রয়েছেন।

পরে সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প মজা করে জানান, তাঁরা একটি ‘বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ ছিলেন। ট্রাম্প (Donald Trump) আরও বলেন, তিনি যদি যান, তাহলে সাংবাদিকদেরও তাঁর সঙ্গে যেতে হবে।

সি-৩২এ বিমানে করে ট্রাম্প (Donald Trump) ব্রিটেনে পৌঁছন প্রায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে। কয়েক মিনিট পর পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছয়। তবে ট্রাম্প (Donald Trump) কীভাবে পরে সেই বিমানে ফিরে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ব্রিটেনে নামার পর রাত ১০ ৫৬ মিনিটে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ট্রাম্পকে (Donald Trump) নামতে দেখা যায়। তিনি সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে অভিভাবদন জানান। এরপর কিছু মার্কিন সেনার সঙ্গে দেখা করে নতুন কাতারের বিমানের দিকে চলে যান।

আরও পড়ুন: নেতাজির শেষ পরিণতি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর এবার নজর সুপ্রিম কোর্টে—জাপান থেকে কি ফিরবেন ‘দেশনায়ক’?

কাতারের দেওয়া নতুন বিমান ঘিরেও প্রশ্ন

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য জানিয়েছে, বিমানটিতে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য উচ্চস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক স্টিভ চেউং বলেন, আমেরিকার অনেক শত্রুই প্রেসিডেন্টকে (Donald Trump) লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছে। সেই কারণে প্রেসিডেন্টের  (Donald Trump) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাতার গত বছর আমেরিকাকে যে বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি উপহার দিয়েছিল, সেটিই সংস্কার করে নতুন বিমান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সংস্থা এল৩ হ্যারিস টেকনোলজিস বিমানটির সংস্কারে দায়িত্বে ছিল। বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের এয়ার ফোর্স ওয়ান তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগায় সাময়িকভাবে এই বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

দেখুন: