• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 24 September, 2026

‘মাথা নত করবে না ইরান’, আমেরিকা থেকেই ট্রাম্পকে পাল্টা পেজেশকিয়ানের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছিলেন। হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া-সহ যুদ্ধ থামানোর বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।

‘মাথা নত করবে না ইরান’, আমেরিকা থেকেই ট্রাম্পকে পাল্টা পেজেশকিয়ানের

Photo: STATESMAN

আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মার্কিন হুমকির সামনে মাথা নত করবে না তেহরান। তবে যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

এর ঠিক আগের দিন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চ থেকেই ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। চুক্তি না হলে ইরানকে ‘নরকে পাঠানো’ হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্যের জবাবেই পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ এবং হুমকি ইরানের সংকল্পকে আরও শক্ত করবে। ইরান কখনও শক্তির ভাষার সামনে নত করবে না।

ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে যে মন্তব্য ট্রাম্প করেছিলেন, তারও জবাব দেন পেজেশকিয়ান। ইরানের উপরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার ছবি দেখিয়ে তাঁর দাবি, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদী নই। আমরা সন্ত্রাসের শিকার।’ মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় শিশুদের মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিও রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে তুলে ধরেন তিনি।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করার অভিযোগও তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলেও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, তবে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালী নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পেজেশকিয়ান। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছিলেন। হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া-সহ যুদ্ধ থামানোর বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং-কে স্বাগত ট্রাম্পের, বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নজর

পেজেশকিয়ানের ভাষণ শুরু হতেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সভা থেকে বেরিয়ে যান মার্কিন প্রতিনিধিরা। ইজরায়েলের প্রতিনিধিরাও তাঁদের ভাষণ বয়কট করেন। তবে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না তেহরান। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান শান্তি চায় এবং কূটনীতির মাধ্যমেই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আগ্রহী।