ইমামি গোষ্ঠীর সংস্থা ইমামি অ্যাগ্রোটেক লিমিটেড ভারতের ১ লক্ষ কোটি টাকার স্ন্যাকিং শিল্পের বাজারে প্রবেশ করেছে। সংস্থাটি তাদের ‘উই মি’ ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস-এর উন্মোচন করেছে।
আপাতত, সংস্থাটি চোকো হ্যাজেলনাট স্প্রেড, ঝুরি আলুভাজা, এবং পোট্যাটো চিপস দিয়ে এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। আগামী দিনে পণ্যের সম্ভার বাড়ানো হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। বর্তমানে, গুজরাটের একটি সংস্থায় তৈরি চোকো হ্যাজেলনাট স্প্রেড এবং এই রাজ্যের একটি কারখানার আলুভাজা ও পোট্যাটো চিপস আউটসোর্স করা হয়েছে। তবে, শিগগিরই নিজস্ব কারখানা তৈরি করতে চলেছে সংস্থাটি।
আদিত্য বর্ধন আগরওয়াল বলেন, ‘স্ন্যাকিং পণ্য তৈরির জন্য এই রাজ্যে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি নতুন কারখানা তৈরি করা হবে। ২০ একরের মতো জমি লাগবে কারখানা তৈরিতে। জমির খোঁজ চলছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে কারখানায় উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।’
কারখানা তৈরি হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৪ হাজার কর্মসংস্থান হবে। কারখানায় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং, সেলস ও ডিস্ট্রিবিউশন খাতে ৩৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।
ভিদুলা আগরওয়াল বলেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে স্ন্যাকস ব্যবসা থেকে সংস্থার আয় ১ হাজার কোটি টাকা করতে চায় ইমামি অ্যাগ্রোটেক। যা সার্বিকভাবে ইমামি গোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। প্রাথমিকভাবে এই রাজ্যে পণ্য বিক্রি শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে বিক্রি করা হবে।’
দেশের ১ লক্ষ কোটি টাকার স্ন্যাকিং বাজার, যা বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শেয়ার ৮-১০ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে ইমামি এই বাজারের ৩ শতাংশ নিজেদের দখলে আনতে চায় বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত অর্থবর্ষের শেষে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারী সংস্থাটির মোট আয়ের অঙ্ক ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র ভোজ্যতেল বিক্রি করেই ১২ হাজার কোটি টাকার মতো আয় হয়। নতুন ব্যবসার উপরে ভর দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে ব্যবসা ৩০ হাজার কোটি টাকা ছোঁবে বলে আশাবাদী আদিত্য।
সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে ‘উইমি’-র বাজার বিস্তার করা হবে। এরপর ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ব্র্যান্ডটি সম্প্রসারণ করা হবে। বিদুলা আগরওয়াল জানান, পশ্চিমবঙ্গ একাই সংস্থার লক্ষ্যবস্তু স্ন্যাকস বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৩ শতাংশ বাজার দখলের লক্ষ্য নিয়েছে ইমামি অ্যাগ্রোটেক।
ইতিমধ্যেই ‘উইমি’-র কিছু পণ্য ব্লিঙ্কিটে পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কলকাতার প্রায় ২৫,০০০ খুচরো দোকানে এই ব্র্যান্ডের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইমামি তাদের সংস্থা ‘উইমি’-কে ডিজিটাল-ফার্স্ট ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। অনলাইন বিক্রির পাশাপাশি দ্রুত অফলাইন রিটেল নেটওয়ার্কও সম্প্রসারণ করা হবে।
আদিত্য আগরওয়াল জানান, স্ন্যাকস ব্যবসায় লাভের মার্জিন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। যেখানে এডিবল অয়েলে মার্জিন ২ থেকে ৪ শতাংশ, মশলা ও শস্যজাত পণ্যে ৬ থেকে ১৫ শতাংশ, সেখানে স্ন্যাকস বিভাগে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন পাওয়া যায়। এই কারণেই সংস্থা স্ন্যাকস বাজারে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে ইমামি অ্যাগ্রোটেকের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। নতুন ব্র্যান্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত কারখানার মাধ্যমে সংস্থা খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় আরও বড় উপস্থিতি তৈরি করতে চাইছে।




