• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 6 August, 2026

বেসরকারি হাসপাতালের উপর নজর রাখবে রাজ্য সরকার, নতুন রেগুলেটরি কমিশন গঠন

এই নবগঠিত কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

বেসরকারি হাসপাতালের উপর নজর রাখবে রাজ্য সরকার, নতুন রেগুলেটরি কমিশন গঠন

Swasthya Bhavan Photo-ANI

রাজ্যের মানুষজন যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পান তার জন্য রাজ্য সরকার নানা প্রচেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে চালু করা হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। এই প্রকল্প যাঁরা পাবেন না তাঁরাও যাতে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা নিয়ে আসা হচ্ছে। রাজ্যের সব মানুষকে যাতে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায় তার জন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। আর তাই এবার রাজ্যে বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলির পরিষেবা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করতে পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন পুনর্গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার।

অনেক সময়ই দেখা যায়, এই ধরণের সরকারি বিমা থাকলেও বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা পরিষেবা দিতে চান না। আবার জরুরি ভিত্তিতে আসা রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অজুহাত হিসাবে বলা হয়, বেড নেই। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্টস (নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা) আইন, ২০১৭ সালের ধারা ৩৬ অনুযায়ী রাজ্যপাল নতুন কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলি কোনওরকম বেগরবাই করলে রাজ্য সরকার আিন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারবে।

এই নবগঠিত কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ভাইস চেয়ারপার্সন করা হয়েছে আইএএস অফিসার মৌমিতা গোদারা বসুকে। আর এই কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. সুশান্ত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. সন্দীপ রায়, ডা. স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ, ডা. নারায়ণ চক্রবর্তী, ডা. ধনপত রাম আগরওয়াল, ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার গৌতমমোহন চক্রবর্তী, ডা. মধুমিতা দুবে এবং ডা. শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন রেগুলেটরি কমিশন পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্টস (নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা) আইন, ২০১৭ অনুযায়ী তার উপর থাকা সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে। হাসপাতাল এবং ক্লিনিক বিষয়ক অভিযোগের নিষ্পত্তি, পরিষেবার মান বজায় রাখা, রোগীর অধিকার রক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের জেরে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নজরদারি জোরদার হবে। আর রোগীর স্বার্থ রক্ষায় কমিশনের ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে।