হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কথা এর আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নায়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে রেখে বড় ওয়ার্ডগুলিকে ভেঙে নতুন ওয়ার্ড তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। এবার হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রকাশ করল প্রশাসন। রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে নতুন ওয়ার্ড সীমানার প্রস্তাবিত খসড়া। সেই সঙ্গে নাগরিকদের কাছ থেকে আপত্তি ও পরামর্শও আহ্বান করা হয়েছে।
জেলা শাসক তথা হাওড়া পুরসভার প্রশাসকের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ অগস্ট থেকে ১২ অগস্ট পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ে এই খসড়া দেখা যাবে। হাওড়া জেলা শাসকের দপ্তরের মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা, হাওড়া পুরসভার কমিশনারের দপ্তর এবং সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরে খসড়াটি পরিদর্শনের সুযোগ থাকছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলির সীমানা নিয়ে কোনও আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জেলা শাসক ও হাওড়া পুরসভার প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত আকারে জমা দেওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় সংশোধন সম্পন্ন হওয়ার পরেই খসড়ার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ওয়ার্ড বিন্যাস প্রকাশ করা হবে।
পুর প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে আসন্ন পুরভোটের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। নতুন ওয়ার্ড সীমানা নিয়ে নাগরিকদের মতামত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়বে। উল্লেখ্য, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নায়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই অভিযোগ করেছিলেন দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় হাওড়া পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।
তাঁর অভিযোগ ছিল, এক একজন আধিকারিককে ১৫-২০টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। সেজন্য জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বড়ো ওয়ার্ডগুলিকে ভেঙে নতুন ওয়ার্ড তৈরি করা হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এর পরেই জুলাই মাসে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী নভেম্বরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন বোর্ড গঠনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রকাশ করল প্রশাসন।




