এবার খুব অল্প সময়ের জন্য বসতে চলেছে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। সেটা শুরু হওয়ার কথা ১২ আগস্ট। তিনদিন অধিবেশন চলতে পারে বলে বিধানসভা সূত্রে খবর। সরকারপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ বিল এখন আনতে চলেছে। আলোচনা হতে পারে ক্যাগ রিপোর্ট নিয়েও। এই আবহে সরকারি মুখ্যসচেতক অম্লান ভাদুড়ির পক্ষ থেকে ফরমান জারি হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অধিবেশন চলুক অথবা না চলুক, সপ্তাহে একদিন বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে হবে রাজ্যের মন্ত্রীদের। বিধায়কদের এলাকার সমস্যা থেকে শুরু করে নাগরিক স্বার্থে উন্নয়নের কাজের কথা শুনতে হবে। মন্ত্রীদের কাছে নির্দেশ গিয়েছে, সপ্তাহে একদিন সময় বের করে বিধায়কদের কথা শুনতে হবে। তাই এবার সপ্তাহে বিধানসভাতেই একদিন করে সময় দিতে চলেছেন মন্ত্রীরা বলে সূত্রের খবর।
কদিন আগে বিধানসভাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘরগুলি শুধু নেমপ্লেট লাগানোর জন্য নয়। ওই ঘরে বসে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের এলাকার সমস্যা শুনে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার পরই দলের পক্ষ থেকে ‘বিধায়ক মিট’ শুরু করার জন্য নির্দেশ গেল রাজ্যের মন্ত্রীদের কাছে। এখন বিধায়কদের নিয়ে গঠিত যাবতীয় কমিটি গঠনের কাজ সেরে ফেলতে চাইছে বিধানসভার সচিবালয়। স্ট্যান্ডিং এবং বিধানসভার নিজস্ব মিলিয়ে কমিটি রয়েছে মোট ৪১টি। এসব কমিটির চেয়ারম্যান এবং সদস্য ঠিক করে সচিবালয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। সেখানে গতকালই ঠিক করা হয়েছে চেয়ারম্যান হবেন ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক কানহাইয়ালাল আগরওয়াল।
এবার থেকে বিধায়কদের সঙ্গে মন্ত্রীদের যে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে নাগরিক পরিষেবা এবং এলাকার সমস্যা নিয়ে একাধিক দপ্তরের কাছে বিধায়কদের পক্ষ থেকে যেসব প্রশ্ন থাকবে সেই সব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকে লিখিতভাবে বিধায়কদের জানিয়ে দিতে হবে। এভাবেই বিরোধী বিধায়করাও তাঁদের এলাকার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের মধ্যে এখন দুটি ভাগ। এক, কালীঘাট তৃণমূল। দুই, ঋতব্রত তৃণমূল। তাঁরা কে কতটা নাগরিক পরিষেবা নিয়ে মন্ত্রীদের কাছে যান এখন সেটাই দেখার।
নতুন সরকারের মাত্র তিন মাস হয়েছে। বিধানসভার অধিবেশনে এখনও তাই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়নি। আগামী অধিবেশনে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হবে। এলাকায় নাগরিক পরিষেবার কাজ অব্যাহত রাখতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিধায়কদেরও পার্টির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জনসংযোগ বাড়াতে। উন্নয়নের কাজের গতিকে অব্যাহত রাখতে মন্ত্রী এবং বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।




