বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৬০ জন বিধায়কদের নিয়ে বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে ঋতব্রত শিবির। সুতরাং বিরোধী দল হিসাবে বিধানসভায় ঘরও পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী কালীঘাট তৃণমূল তকমাও পায়নি, ঘরও পায়নি। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দরবার করেছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার কথা রাখতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পৃথক ঘর পেতে চলেছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করা।
এদিকে বিধানসভায় পৃথক ঘর পেতে চলেছেন কালীঘাট তৃণমূল বিধায়করা বলে খবর মিলেছে। বিধানসভার একতলাতেই বিধায়কদের বসার জন্য পৃথক ঘর দেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথাও হয়েছে বিধায়ক কুণাল ঘোষের। সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন একে অপরের সঙ্গে। তবে সামান্য মেরামতির কাজ রয়েছে। সেগুলি সেরে ফেলেই ওই ঘর কালীঘাট তৃণমূল বিধায়কদের তুলে দেওয়া হবে বলে বিধানসভা সূত্রে খবর। তবে কালীঘাট তৃণমূল বিধায়কদের অনুরোধ করা হয়েছে, অধিবেশন না থাকলে সন্ধ্যা ৭টার পর যেন কোনও ঘরে বিধায়করা না থাকেন। অনেকে বলছেন, কলকাতা হাইকোর্টে ঋতব্রত শিবির ধাক্কা খাওয়ার পরই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস।
অন্যদিকে কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, আবদুর রহিম বক্সি, রুকবানুর রহমান এবং কুণাল ঘোষ। তার পরেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিধানসভায় তাঁদের বসার পৃথক ঘর, আসন নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই আশ্বাস বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। কথা রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী। যেদিন কুণাল ঘোষরা দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তখন পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তাঁদের বসার জন্য আলাদা ঘর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ সময় থেকে মুখ্যসচেতক তাঁদের বলার জন্য সময় দেবেন।
তাছাড়া কালীঘাট তৃণমূল পৃথক ঘর বিধানসভায় পেলে উদ্ভূত জট কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে বিরোধী দলনেতা তথা ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ওই মামলার শুনানিতে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়, আপাতত বিরোধী দলনেতা থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অস্থায়ীভাবে তিনি থাকছেন। দু’মাসের মধ্যে সমস্ত নথি জমা পড়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে কালীঘাট তৃণমূলের পৃথক ঘর বিধানসভায় পাওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এখনও বিধানসভায় আড়াআড়ি দু’ভাগে বিভক্ত রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তৃণমূল।




