অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাপট নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে কোচ সৌরভও যে তাঁর দলের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলতে পারেন, তার প্রমাণ মিলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগ এসএ২০-তে। অন্য কেউ নন সেই লিগে যে দলের কোচ সৌরভ, সেই প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের অধিনায়ক কেশব মহারাজের কথায়, ‘দাদা সব বদলে দিয়েছেন’। তিনি জানিয়েছেন, সৌরভের হাত ধরেই দলের পরিবেশ, মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাসে এসেছে আমূল পরিবর্তন।
গত দু’টি মরসুমে প্লে-অফেই উঠতে পারেনি প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। কিন্তু এ বার হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই দলকে এসএ২০-র ফাইনালে তোলেন সৌরভ। এই সাফল্যের বড় কৃতিত্বই ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ককে দিয়েছেন মহারাজ।
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কেশব মহারাজ বলেন, ‘প্রথম বার হেড কোচের দায়িত্ব পেয়েছিলেন দাদা। ওঁকে নিয়ে আমরা সবাই খুব উৎসাহী ছিলাম। ভারতকে বহু বড় বড় ম্যাচ জেতানো অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ড্রেসিংরুমে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি, সঙ্গে আমাদের দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তিদের অভিজ্ঞতা— সব মিলিয়ে দলের মধ্যে এক অন্য রকম শক্তি ও আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে’।
সৌরভের সবচেয়ে বড় গুণ হিসেবে তাঁর ইতিবাচক মানসিকতার কথা তুলে ধরেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার। তাঁর কথায়, ‘দাদা সব সময় ইতিবাচক। কোনও তথ্য বা পরামর্শ চাইলে সহজেই পাওয়া যায়। তিনি সব সময় চান, ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দিক। প্রত্যেককে সমান ভালোবাসা, যত্ন এবং গুরুত্ব দেন’।
লিগ পর্বে চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ছন্দ ফিরে পেয়েছিল প্রিটোরিয়া। সেই মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার নেপথ্যেও সৌরভের অবদান দেখছেন মহারাজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের মরসুমটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে ঘরের মাঠে প্রত্যাশামতো খেলতে পারিনি আমরা। কিন্তু সঠিক সময়ে আমরা ছন্দে ফিরেছি। এখন সেই গতি ধরে রেখে নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক কার্যকর করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’।
অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন কেশব মহারাজ। ১২টি ম্যাচে ১২টি উইকেট নেন তিনি, ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৬.৫৪। তাঁর এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে ফাইনালে পৌঁছতে বড় ভূমিকা নেয়।
প্রথম মরসুমেই কোচ সৌরভের প্রশিক্ষণে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের এই ঘুরে দাঁড়ানো ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যও একটি বড় বার্তা বলে মনে করছেন অনেকেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে সাফল্যের পর কোচ হিসেবেও যে দলকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কলকাতার মহারাজের, দক্ষিণ আফ্রিকার মহারাজের মন্তব্যে সেই স্বীকৃতিই আরও জোরালো হল বলা যায়।




